যশোরের শার্শার পল্লিতে বোমা হামলায় আব্দুল হাই (৫০) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। শনিবার ঈদের দিন সন্ধ্যার পর বেনাপোল পোর্ট থানার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ডুবপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মো. রাসেল মিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আব্দুল হাই ডুবপাড়া গ্রামের হারান আলীর ছেলে। তিনি ওয়ার্ড বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন বলে জানান দলের শার্শা উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন। সাইদ নামে এক যুবকের নেতৃত্বে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে জানিয়ে তিনি বলেন, হামলাকারীরা নেশাসক্ত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডুবপাড়া জামতলা মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত আব্দুল হাইকে দ্রুত শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানায়, আজ সকালে গ্রামের ঈদগাহে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। ওই সময় ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জামসুরের ছেলে আবু সাইদ (৩৫) ও তার সঙ্গে থাকা ৪-৫ ব্যক্তি কতিপয় আওয়ামী সমর্থককে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণে বাধা দেয়। এ সময় আব্দুল হাইসহ অন্যরা এই কাজের প্রতিবাদ করেন। এ ঘটনার জেরে সন্ধ্যায় সাইদসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলে এসে আব্দুল হাইকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। একটি বোমা হাইয়ের ঘাড়ে আঘাত করে বিস্ফোরিত হয়।
জানতে চাইলে যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, নিহত আব্দুল হাই বিএনপির কর্মী। কে বা কারা বোমা হামলা চালিয়েছে তা তিনি এখনও জানতে পারেননি।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মো. রাসেল মিয়া বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের ঘটনায় রেষারেষির জের ধরে ককটেল হামলায় আব্দুল হাই মারা গেছেন। তার মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। আগামীকাল রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। হামলায় জড়িত ও নিহত উভয় পক্ষই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানান ওসি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

