ঝিনাইদহে মানবপাচার মামলায় পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডু থানায় দুই প্রবাসীর মামলায় আসামিদের বাঁচাতে বাদী ও সাক্ষীদের স্বাক্ষর জাল করে আদালতে তিনি মিথ্যা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বলে অভিযোগ বাদীদের।
এ ঘটনায় দুই প্রবাসী ও দুই মামলার বাদী হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ফলসি গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে মো. হাবিবুল্লাহ বাশার এবং একই গ্রামের চাঁদ আলীর ছেলে রাশেদুল ইসলাম খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হরিণাকুণ্ডুর হাবিবুল্লাহ বাশার ও রাশেদুল ইসলামকে ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে একটি চীনা ব্ল্যাক ক্যাসিনো কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয় পাচারকারী চক্রের সদস্য কুলবাড়িয়া গ্রামের শরিফুল জোয়ারদার, তার স্ত্রী জলি বেগম ও ছেলে সাজিদ জোয়ারদার। সেখানে জিম্মি রেখে নির্যাতনের পর তাদের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ হাতিয়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে তারা দেশে ফিরে বিজ্ঞ মানবপাচার দমন ট্রাইব্যুনালে পিটিশন মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে ৬ মে হরিণাকুণ্ডু থানায় দুটি মামলা করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, মামলার তদন্তভার হাতে পেয়েই এসআই নাহিদুর রহমান সঠিক প্রতিবেদন দেওয়ার বিনিময়ে বাদীদের কাছে সরাসরি আড়াই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ডও বাদীদের কাছে রয়েছে। ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ওই এসআই আসামিদের সঙ্গে আপস-রফা করার জন্য বাদীদের চাপ দেন। বাদীরা এ অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ৩০ জুন অগোচরে আদালতে একটি বানোয়াট ও মিথ্যা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন ওই কর্মকর্তা। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের ফলে ঘটনার দিনই আসামিরা জামিনে মুক্তি পান।
এদিকে, ভুক্তভোগী দুই প্রবাসী একই বিমানে পাশাপাশি আসনে একসঙ্গে দেশে ফিরলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে হাবিবুল্লাহ বাশারের সিট নম্বর বিএস-৩২৬ এবং রাশেদুল ইসলামের সিট নম্বর বিএস-৩৪৬ বলে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া, গত ৩০ জুন মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় মামলার তদন্তের ফলাফল জানিয়ে বাদীদের যে পত্র দেওয়া হয়, সেখানে বাদী রাশেদুল এবং সাক্ষী হাফিজ, মিন্টু ও মিল্টনের স্বাক্ষর জাল করা হয়। সাক্ষী মিল্টনের পিতার নাম ওয়াজ্জেদ আলী হলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ইচ্ছাকৃতভাবে পিতার নাম ইবাদত মন্ডল লেখা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী হাবিবুল্লাহ বাশার ও রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা ঝিনাইদহের পুলিশ সুপারের কাছে এই দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং যে কোনো নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে মামলাটি পুনরায় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
হরিণাকুণ্ডু থানার এসআই মো. নাহিদুর রহমান বলেন, মানবপাচার মামলা প্রমাণ করতে হলে টাকা-পয়সা লেনদেনের ডকুমেন্ট থাকতে হয়। কিন্তু হাবিবুল্লাহ ও রাশেদুল ইসলাম তা দিতে পারেননি। তিনি আড়াই লাখ টাকা ঘুষের প্রস্তাবের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান বলেন, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

