বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের সিংহভাগজুড়ে বালু-পাথরের বিশাল স্তূপ, দিনের পর দিন ফেলে রাখা এ স্তূপের কারণে শিক্ষার্থীরা প্রারম্ভিক সমাবেশে মিলিত হতে পারে না। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে তাদের খেলাধুলা, চলাফেরায়। নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। বিদ্যালয়ের নতুন ষষ্ঠতলা একাডেমিক ভবনের বাস্তবায়ন কাজের অচলাবস্থার ফলে মাসের পর মাস নড়াইলের শতবর্ষী এ বিদ্যাপীঠে এমন বেহাল দশা। এক পাশে নতুন ভবনের জন্য খনন কাজের ফলে সেখানে বৃষ্টির পানি জমে শিশুদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর নড়াইল বিভাগ দরপত্র আহ্বান করে। ছয় কোটি ৮৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত দরের বিপরীতে ১০ শতাংশ কম দর দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢাকার মিরন এন্টারপ্রাইজ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০২৫ সালের ২১ জুলাই কার্যাদেশ পায়। ২০ মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের শর্তে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। পরে মিরন এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে নড়াইলের স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইডেনপ্রাইজ কাজটি বাস্তবায়নে চুক্তিবদ্ধ হয়। দুটি পুরাতন ভবন অপসারণ করে দ্রুততার সঙ্গে নতুন ভবনের পাইলিং শেষ করে বেজমেন্ট ঢালাইয়ের জন্য বালু-পাথর জড়ো করার পরই বাধে বিপত্তি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ঢালাইয়ের বালুর মান ২.২ এফএম এর অধিক এবং পাথর ২০ মিমি. ডাউন ওয়েল গ্রেডেড হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারের সরবরাহ করা সামগ্রীর মানের ক্ষেত্রে যথাযথ নির্দেশনা মানা হয়নি। কাজে কমিশন আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর নড়াইল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, কাজ বুঝে নিতে গিয়ে ঠিকাদারদের বিরাগভাজন হতে হয়। এ কারণে নানা মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
তিনি আমার দেশকে বলেন, বিদ্যালয়ে বেজমেন্ট ঢালাইয়ের জন্য যে নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে তা দিয়ে মানসম্মত কাজ সম্ভব নয়। তাই ঠিকাদারকে নিম্নমানের এসব সামগ্রী সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

