ছাত্রদলকে লাল কার্ড দেখিয়ে কুয়েট শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ছাত্রদলকে লাল কার্ড দেখিয়ে কুয়েট শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ছাত্রদল, ছাত্র রাজনীতিসহ সব ধরনের ছাত্র সংগঠনকে লাল কার্ড দেখিয়েছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের রক্ষায়ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি এ লাল কার্ড দেখানো হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিভিন্ন হল ও শহরের নানা স্থান থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের দূর্বার বাংলা প্রাঙ্গণে জড়ো হন। এখান পালিত হয় লাল কার্ড প্রদর্শন কর্মসূচি। এ সময় কুয়েটের বিভিন্ন সাইনবোর্ড, দেয়ালসহ অন্যান্য স্থানে লাল রং দিয়ে ‘রক্তাক্ত কুয়েট’সহ বিভিন্ন লেখা লিখে গ্রাফিতি অঙ্কন করেন তারা।

এ সময় ছাত্রলীগ ছাত্রলীগ লাল কার্ড লাল কার্ড, ছাত্রদল ছাত্রদল লাল কার্ড লাল কার্ড, ছাত্রশিবির ছাত্রশিবির লাল কার্ড লাল কার্ড, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন লাল কার্ড লাল কার্ড, ছাত্রমৈত্রী ছাত্রমৈত্রী লাল কার্ড লাল কার্ড, ছাত্র ইউনিয়ন ছাত্র ইউনিয়ন লাল কার্ড লাল কার্ড, শিক্ষা-সন্ত্রাস একসঙ্গে চলে না, আমার ভাইকে মারল কেন, প্রশাসন জবাব চাই, শিক্ষার্থীর রক্ত ঝরে প্রশাসন তামাশা করে, কুয়েটে যখন রক্ত ঝরে আবরার তোমায় মনে পড়ে- ইত্যাদি শ্লোগান দিতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে অবিলম্বে কুয়েটে নতুন ভিসি, প্রো ভিসি নিয়োগের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানান। একই সাথে এমন ন্যাক্কারজনক একটি ঘটনার তিনদিন পরেও সরকারের কোন উপদেষ্টা এ বিষয়ে খোঁজ খবর না নেওয়ায় কিংবা এ বিষয়ে কোন বিবৃতি না দেওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে শিক্ষার্থীদের রক্তের ওপরে দাঁড়িয়ে আপনারা আজ ক্ষমতায় তাদের রক্তের সাথে প্রতারণা চলবে না। বিকেলে ক্যাম্পাসে হামলায় আহতদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শনীর কথা রয়েছে।

এদিন সকালে কুয়েটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে গিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর সাড়ে ৯টায় তালা খুলে অফিসে প্রবেশ করে দিনের কার্যক্রম শুরু করেন। তবে সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্ধ রযেছে একাডেমিক কার্যক্রম।

কুয়েটে হামলার ঘটনায় থানায় মামলা: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কুয়েটের শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। বুধবার রাতে খানজাহান আলী থানায় কুয়েটের নিরাপত্তা পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান লিটন এ মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় ৪/৫শ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ আহসান হাবীব জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মামলাটি থানায় নথিভুক্ত হয়েছে। পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি দেখছে এবং যারা হামলায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন