খুলনার পাইকগাছার নাছিরপুর খাল স্থানীয়দের কাছে ছিল ‘জিয়নকাঠি’ বা জীবন ধারণের উপায়। প্রায় দশ কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত জলাধারটি ২০টি গ্রামের লাখ লাখ মানুষ এর ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু মাঝে তিন দশক সেটি দখলে রেখেছিল রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা। অবশেষে বুধবার খালটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন। এতে উপজেলার তালতলা থেকে হরিঢালী পর্যন্ত জলাধারটিতে মাছ ধরার উৎস শুরু হয়েছে। বাধ ভাঙা উল্লাসে মেতেছেন স্থানীয়রা।
আনুষ্ঠানিকভাবে খালটি উদ্ধার ও উন্মুক্ত করার সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় হাজার হাজার জনতা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ একরামুল হোসেন, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও বিশিষ্টজন। এ সময় দখলমুক্ত করা প্রায় ২০৫ বিঘা জায়গার ওপর বিভিন্ন স্থানে টাঙিয়ে দেওয়া হয় সাইনবোর্ড।
এর আগে গত ৩০ জুন খুলনা জেলার ভূমি মন্ত্রণালয়ে জলমহাল ইজারা সংক্রান্ত কমিটির সর্বশেষ সভায় পাইকগাছার নাছিরপুর খাল উন্মুক্ত করার ঘোষণা করা হয়।
এই খাল উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে নিরলসভাবে ভূমিকা রেখেছেন পাইকগাছা-কয়রা এলাকার জনহিতৈষী ও বিশিষ্ট সাংবাদিক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন। তিনি খালটিতে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অসংখ্য বার মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচি আয়োজন করেন। অবশেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলামের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় খাল উদ্ধার ও উন্মুক্ত করা হয়।
স্থানীয়রা বলেন, কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন ডাবলু দীর্ঘ দিন ধরে কখনো ইজারা নিয়ে আবার কখনো ইজারাবিহীন অবৈধ দখলে রেখে খন্ড খন্ড করে নেটপাটা দিয়ে লবণ পানির চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছিলেন। তার সঙ্গে আরো বেশ কয়েক দখলদার। আওয়ামী দুঃশাসনের আমলেও এখান থেকে লুটপাট করা প্রচুর সম্পদ। বঞ্চিত করা হয় সাধারণ মানুষকে । অবশেষে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ স্থানীয় বাসিন্দারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

