পাইকগাছায় তাঁবু টানিয়ে চলছে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ক্লাস

পাইকগাছায় তাঁবু টানিয়ে চলছে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ক্লাস
পাইকগাছা মটবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁবু টানিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

খুলনার পাইকগাছায় শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকায় তাঁবু টানিয়ে চলছে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ক্লাস । রোদ ও বৃষ্টিতে উৎকণ্ঠায় থাকে শিক্ষার্থীরা । জানা গেছে, খুলনার পাইকগাছার খোদ সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানের জন্য এই ব্যবস্থা। তাঁবুর নিচে সারি সারি বেঞ্চ বসিয়ে চলছে পাঠদান । এতে বৃষ্টিতে ভিজছে ও রোদে পুড়ছে শিক্ষার্থীরা । গাদাগাদি করে বসে আছে কোমলমতি শিশুরা। সামনে দাঁড়িয়ে পাঠ দিচ্ছেন শিক্ষক।

বিজ্ঞাপন

এভাবেই চলছে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ২৪ নম্বর মটবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ৩৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান। যেখানে আকাশে মেঘ জমলেই শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে ভর করে শঙ্কা। কখন যে বৃষ্টি নামে, কখন ভিজে যায় বই-খাতা, দুশ্চিন্তায় পাঠ গ্রহণে নেই মনোসংযোগ। ব্যাহত হচ্ছে সুষ্ঠু শিক্ষা কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকায়, খোলা ছাদের নিচে তাঁবু টানিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া, চালিয়ে যেতে হচ্ছে শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম। তবে এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মটবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩০০। বিপরীতে বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র পাঁচটি। ফলে সব শ্রেণির পাঠদান স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প হিসেবে তাঁবু টানিয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিদা হোসেন নাবিলা বলেন, বৃষ্টি শুরু হলে তাঁবুর ভেতরে পানি ঢুকে যায়। তখন বই-খাতা ভিজে যায়। অনেক সময় ক্লাসও বন্ধ রাখতে হয়। বৃষ্টি হলে স্কুলে আসতেও ভয় লাগে। শুধু আবিদা নয়, একই বক্তব্য অন্যান্য সহপাঠীদের। তাদের ভাষ্য, রোদে তাঁবুর নিচে প্রচণ্ড গরম লাগে। আবার বৃষ্টি হলে পানি ঢুকে পড়ে। ফলে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুষমা রানি মণ্ডল বলেন, বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ আছে মাত্র পাঁচটি। এক শিফটে সব শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। এ কারণে বাধ্য হয়ে নতুন ভবনের খোলা ছাদের নিচে তাঁবু টানিয়ে অতিরিক্ত শ্রেণির পাঠদান করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, তৃতীয় শ্রেণির ৩৭ শিক্ষার্থীর পাঠদান শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত নতুন শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বৃষ্টি হলে তাঁবুর নিচে পানি ঢুকে শিশুদের বই-খাতা ভিজে যায়। ভেজা পরিবেশে বসে থাকায়, অনেক সময় তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্ষার দিনে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। তাদের দাবি, দ্রুত বিদ্যালয়ে নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করতে হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, বিষয়টি দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত একটি শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, দেখিনি। যদি এমন হয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠাতে বলব। আর এর মধ্যে টিনের বরাদ্দ আসলে কিছু টিন দিয়ে অস্থায়ী চালানোর জন্য চেষ্টা করব।

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন