খুলনায় পশু বিক্রি ও রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড, হতাশায় বড় গরুর খামারিরা

এহতেশামুল হক শাওন, খুলনা

খুলনায় পশু বিক্রি ও রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড, হতাশায় বড় গরুর খামারিরা
ছবি: আমার দেশ

খুলনা মহানগরী এলাকায় কোরবানির পশু বিক্রির জন্য একমাত্র হাটটি পরিচালনা করে সিটি কর্পোরেশন। হাটের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের চূড়ান্ত হিসেবে এবার রেকর্ডসংখ্যক পশু বিক্রি হয়েছে। রাজস্ব আদায়েও অতীতের রেকর্ড ভেঙেছে। তবে বড় আকারের গরু বিক্রি এবার একেবারে শূন্যের কোটায় নেমে আসায় মাথায় হাত উঠেছে খামারিদের।

নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জোড়াগেট হাট থেকে রেকর্ড পরিমাণ মোট ৬ হাজার ৮৮০টি কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে। এ থেকে কেসিসির মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ২৩২ টাকা। হাটে বিক্রি হওয়া মোট পশুর মধ্যে গরু ৪ হাজার ৪৩৩টি, ছাগল ২ হাজার ২৭০টি, ভেড়া ১৭৬টি এবং মহিষ বিক্রি হয়েছে ১টি। ৪ শতাংশ হাসিল (খাজনা) হারে এ থেকে কেসিসির তহবিলে জমা হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ২৩২ টাকার রাজস্ব।

বিজ্ঞাপন

গত বছরগুলোর তুলনায় এবার পশু বিক্রির সংখ্যা বাড়লেও হাসিলের হার পুনর্নির্ধারণের কারণে রাজস্বের পরিমাণে কিছুটা তারতম্য দেখা গেছে। চলতি বছর রেকর্ড ৬ হাজার ৮৮০টি পশু বিক্রি হলেও, এর আগের বছর হাটে বিক্রি হয়েছিল মোট ৬ হাজার ৬৫১টি পশু। যার মধ্যে ছিল ৪ হাজার ৩৮৩টি গরু, ২ হাজার ১৬২টি ছাগল, ১০৩টি ভেড়া এবং ৩টি মহিষ। ওই বছর কেসিসির রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ কোটি ৭ লাখ ৯ হাজার ৬০২ টাকা।

শেষ মুহূর্তে বাজারে ছোট ও মাঝারি আকৃতির গরু বিক্রি বেড়েছে। তবে বড় ও বিশালাকৃতি গরুর ক্রেতা ছিল না বললেই চলে। সাধারণ ক্রেতারা মাঝারি পশু কিনে নিয়ে কোরবানি সম্পন্ন করলেও, বড় গরুর খামারিদের উৎসবের রাত কেটেছে শূন্য হাতে, একরাশ লোকসানের বোঝা নিয়ে। হাটের শেষ সময়ে ঘুরে দেখা গেছে এক করুণ চিত্র। ছোট ও মাঝারি গরুর খাটালগুলো ফাঁকা হয়ে গেলেও বড় গরুগুলো নিয়ে অবিক্রীত অবস্থায় বিষণ্ন সময় পার করতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। ক্রেতারা এলেও বড় গরুর দাম শুনে চলে গেছেন, দর-কষাকষির সুযোগও মেলেনি।

তেরখাদার খামারি ইকবাল হোসেন ‘সাদা পাহাড়’ ও ‘কালো পাহাড়’ নামে দুটি বিশাল গরু নিয়ে হাটে এসেছিলেন। ৩৭ মণের গরু দুটির দাম হেঁকেছিলেন ১৫ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ১১ লাখ। কিন্তু শেষ রাত পর্যন্ত কোনো ক্রেতা আর গরু দুটির দিকে ফিরেও তাকায়নি। লোকসান মেনে ১২ লাখ টাকায় ছাড়তে চাইলেও ক্রেতা মেলেনি। নড়াইলের মো. ইয়াছিন ১৬টি গরু নিয়ে হাটে এসে মাত্র ৪টি বিক্রি করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, বড় গরুর দিকে ক্রেতাদের আগ্রহই ছিল না। অনেকেই যেন মাংসের কেজি মেপে অবাস্তব দাম বলছিলেন।

ফুলতলার মো. সবুজ বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, হাটে ক্রেতা-গরু দুইই ছিল অনেক। কিন্তু সবাই মাঝারি গরুর দিকে ছুটেছে। আমাদের মতো বড় গরুর চাষীদের কপাল পুড়েছে।

এদিকে টুটপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মুহিত বলেন, হাটে এবার প্রকৃত চাষীদের তুলনায় দালালদের দাপট ছিল অনেক বেশি। কেসিসি বাজার কর্মকর্তা ও কোরবানির হাট পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব শেখ শফিকুল হাসান দিদার জানান, হাটে রেকর্ড পরিমাণ পশু বিক্রি ও ২ কোটি ১৫ লাখ ৪৪ হাজার ২৩২ টাকা রাজস্ব আদায় হলেও শেষ মুহূর্তে বড় গরুর খামারিদের এই অসহায়ত্ব সত্যিই বেদনাদায়ক।

প্রসঙ্গত, গত ২১ মে জোড়াগেট পশুর হাট উদ্বোধন করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবছর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খুলনা সিটি করপোরেশন ঈদের আগের সপ্তাহজুড়ে এই ঐতিহ্যবাহী জোড়াগেট পশুর হাটের আয়োজন করে আসছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধার্থে হাটটিতে এবারও কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি ব্যবস্থা ছিল।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...