খুলনায় সুন্দরবন ও সমুদ্রতীরবর্তী নোনা জলে ঘেরা পাইকগাছা, কয়রা ও দাকোপ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় রয়েছে খাবার পানির তীব্র সংকট। কয়েকটি ইউনিয়নের অসংখ্য পরিবারের হাজারো মানুষের মিঠা পানির একমাত্র উৎস পাইকগাছার গড়ইখালীর ‘পীর আলম শাহী পুকুর।’
এ পুকুর থেকে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অসংখ্য নারী-পুরুষ এ পুকুর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করেন। গোটা দশেক নসিমন, ৩০টিরও বেশি ব্যাটারিচালিত ভ্যান এবং নদীপথে কয়েকটি ট্রলারের মাধ্যমে দূর-দূরান্তের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয় এ পানি। প্রতি ড্রাম পানি ২০ টাকা দরে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে অনেক পরিবার। স্থানীয় নসিমন ও ভ্যানচালকদের অনেকেরই আয়ের বড় উৎস এ পুকুরের পানি সরবরাহ।
এ অঞ্চলের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য এ পুকুর ছাড়া মিষ্টি পানির বিকল্প কোনো উৎস নেই বলে জানান গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম কেরু। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারিভাবে এর বিকল্প উৎস খোঁজার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। তাই এ পুকুরের পানিই আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা।
পুকুরটি ঘিরে রয়েছে নানা কাহিনী। এলাকার একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি জানান, পুকুরটি কবে নির্মাণ করা হয়েছে তা তারা সঠিকভাবে বলতে পারেন না। ৮ বিঘা জমিতে নির্মিত এ পুকুরের পানি কখনোই কমে না। পুকুরের ওপর দিয়ে কখনো কোনো পাখিও উড়তে দেখেননি তারা। পূর্বপুরুষদের কাছে শুনেছেন, পীর আলম শাহী নামে এক বুজুর্গ এ পুকুরের পানির ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে চলতেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরটির চারপাশের পাড় উঁচু করে মাটি দিয়ে বাঁধানো এবং পাকা প্রাচীরের বেষ্টনী রয়েছে। এ সময় পাশের দাকোপ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের হরিদাস, সৌমেন, ঠাকুরদাস ও জাহাঙ্গীর ট্রলারে করে পানি নিতে এসেছেন।
দাকোপ উপজেলার গুনারি, নলিয়ান, কামনেবাসি, সুতারখালী ও কালীবাড়ী, পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের বেতবুনিয়া, খাটুয়ামারী ও বয়ারঝাপা, গড়ইখালী ইউনিয়নের গড়ইখালী, বাসাখালী, মিনহাজ, হোগলারচক, বাইনবাড়িয়া, কুমখালী, শান্ত, ফকিরাবাদ ও গাংরখি, লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ও আলমতলা এবং কয়রা উপজেলার হড্ডা গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এ পুকুরের পানি পান করে জীবন ধারণ করেন। নোনা জলের ভিড়ে এক ফোঁটা মিঠা পানির ঠাঁই মেলা ভার। এখানকার পানি লবণাক্ত ও পান করার অনুপযুক্ত। তাই পীর আলম শাহী পুকুরই তাদের খাবার পানির একমাত্র উৎস।
বেশ কিছুদিন ধরে একটি বেসরকারি সংস্থা আলম শাহী পুকুরের পাশে ফিল্টার বসিয়ে গড়ইখালী ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডের ৩৬টি পয়েন্টে পানি সরবরাহ করছে। সেখান থেকে এলাকার গৃহবধূরা পানি সংগ্রহ করেন। এসব পয়েন্টের দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকার আরিফা খাতুন জানান, দূরের লোকের পানি নেওয়ার চাপ থাকার কারণে এ পয়েন্টগুলো বসানো হয়েছে।
উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শেখ রুহুল কুদ্দুস বলেন, পাইকগাছায় খাবার পানির খুবই সংকট।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান বলেন, লবণাক্ততা ও আয়রনের পরিমাণ বেশি থাকায় চারদিকে পানি থাকলেও এখানে সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে। এ সমস্যার সমাধানে চেষ্টা চলছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

