এমপির হাসপাতাল পরিদর্শন নিয়ে দ্বন্দ্ব

মেহেরপুরে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা

মেহেরপুরে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা
ছবি: আমার দেশ

মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের পরিদর্শনকালে দ্বন্দ্বে জড়ায় বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় এমপি ও তার কর্মী-সমর্থকরা পরিদর্শনে যায় হাসপাতালে। এ সময় এমপি লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ করেন জামায়াত নেতারা। তবে বিএনপির নেতাদের দাবি, হাসপাতালের এক স্টাফের ওপর মারধর করা হয়েছে। এমন ঘটনায় উত্তেজিত জনতা এমপির ওপর চড়াও হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিচারের দাবি করেন বিএনপি নেতারা।

সকালে মেহেরপুর-১ আসনের এমপিসহ জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। এ সময় ডা. বেলাল হোসেনের কক্ষে যান তারা। কক্ষটি ফাঁকা ছিল। অথচ হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন তিনি। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শনো ও কক্ষটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এমপি।

বিজ্ঞাপন

পরে নতুন ভবনের প্যাথলজি বিভাগে যান তারা। এ সময় হাসপাতালের আইডি কার্ডবিহীন একজনকে দেখতে পান। তাকে জিজ্ঞাসা করলে হাসপাতালের স্টাফের একটি আইডি কার্ড দেখান তিনি। ঐ আইডি কার্ডটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকের কোনো স্বাক্ষর ছিল না। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন এক জামায়াত কর্মী। শুরু হয় জামায়াত বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে এমপি ও তার কর্মী-সমর্থকরা পরিদর্শনে যান ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ অফিসে। সেখানে তাদের বাইরে থেকে অবুরুদ্ধ করে রাখেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলে অভিযোগ করেন জামায়াত নেতারা।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম। আসে সদর থানা পুলিশের একটি টিম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পর এমপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ অফিস থেকে বের করে দেন পুলিশ ও বিএনপি নেতারা।

জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন বলেন, হাসপাতাল দালালমুক্ত করার জন্যই পরিদর্শনে যান এমপি। সেখানে বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা এক অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। এতে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়।

উভয় দলের নেতারা বসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে হাসপাতাল থেকে যে কোনো মূল্যে দালালমুক্ত করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সেখানে বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা মবের সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে এসে জানতে পারি, জামায়াতের লোকজন এসে হাসপাতালের স্টাফকে মারধর করেছে। উত্তেজিত জনতা জামায়াতের লোকজনের ওপর চড়াও হয়। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এমন ঘটনার জন্য জামায়াতের কর্মী-সমর্থককে দায়ী করেন তিনি।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হুমায়ন কবীর বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হাসপাতালে সব কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন