ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অভ্যন্তরে অবস্থিত থানাকে ঝাউদিয়ায় স্থানান্তরের প্রতিবাদে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন ইবি থানা, উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার সকাল ১১টায় সহস্রাধিক মানুষ মহাসড়কে গাড়ি আটকে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করেন। এতে ইবি সংলগ্ন এলাকার পাঁচটি ইউনিয়নের বাসিন্দারা অংশ নেন। এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
আন্দোলনকারীরা জানান, ইবি থানাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। এটি ঝাউদিয়ায় স্থানান্তরিত হলে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা সৃষ্টি হবে। "আমরা কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করবো না। ইবি থানা অন্যত্র সরানোর সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া হবে না। প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচিতে যাবো।"
স্থানীয়দের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, "প্রয়োজনে ঝাউদিয়ায় নতুন থানা স্থাপন করুন। ইবি থানা সরানোর প্রশ্নই আসে না।"
ছাত্রশিবির ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ হাজার শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার স্বার্থেই থানা এখানে থাকা উচিত।"
এছাড়া আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।
দুই ঘণ্টার বেশি চলা অবরোধে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল কেউ এসে আশ্বাস না দিলে তারা সড়ক ছাড়বেন না।
অবরোধ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রাশিদুজ্জামান বলেন, "এই থানা সরানোর পরিকল্পনা ষড়যন্ত্রের অংশ। এটি কখনো বাস্তবায়ন হতে দেবো না।"
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইবির সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, "প্রয়োজনে ঝাউদিয়ায় আলাদা প্রশাসনিক ব্যবস্থা করুন, কিন্তু ইবি থানা স্থানান্তর করা যাবে না।"
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

