কুপিয়ে জখম, থানায় মামলা

জেল থেকে বেরিয়ে আবারও কোপাল বাদীর ভাইকে

জেল থেকে বেরিয়ে আবারও কোপাল বাদীর ভাইকে
ছবি: আমার দেশ

নেত্রকোনার মদনে পূর্বশত্রুতার জের ধরে কুপিয়ে জখম, থানায় মামলা। জেল থেকে বের হয়েই বাদীপক্ষকে আবারও কূপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। এখন ভয়ে বাড়িছাড়া বাদীপক্ষ।

এমন অভিযোগ উঠেছে উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের কদমশ্রী নওধার (বঙ্গালহাঁটি) গ্রামের শান্তু মিয়া, আজমাতুল ইসলাম, রবি মিয়া, হাবি মিয়া গংদের বিরুদ্ধে। তাদের ভয়ে পুরুষশূন্য হয়ে যায় পরিবারগুলো। বর্তমানে বসতবাড়িতে নারী ও শিশুরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, এক শিশুকে মারধরের ঘটনায় একই গ্রামের শান্তু মিয়ার লোকজন ও লোকমান মিয়ার লোকজনের মধ্যে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি সংঘর্ষ হয়।

এ নিয়ে লোকমান মিয়া গত ২ মার্চ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এ মামলায় শান্তু মিয়ার পক্ষের হাবি মিয়া জেল খাটেন। জেল থেকে বের হওয়ার পর গত ৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টায় লোকমানের ভাই আক্কাস মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে জৈনক আহম্মদ আলীর বসতবাড়ির সামনে কাঁচা রাস্তার ওপর কুপিয়ে জখম করে শান্তু মিয়ার লোকজন।

এতে লোকমান মিয়া ৫ আগস্ট মদন থানায় শান্তু মিয়াসহ ১০ জন এবং অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকালে পদ্মশ্রী নওধার (বাঙ্গাল হাঁটি) গ্রাম পরিদর্শনে গেলে লোকমান মিয়ার পরিবার গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছে বলে স্থানীয়রা সাংবাদিকদের জানান।

তাদের শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না, হাট-বাজার করতে পারছে না, এমনকি বাড়ি থেকেও নারীরা বের হতে ভয় পাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কদমশ্রী সকালের বাজারের কয়েকজন জানান, লোকমান মিয়ারা খুবই নিরীহ প্রকৃতির লোক। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন বিষয়টি দিনে দিনে বাড়ছে।

কয়েক দিন আগে লোকমান মিয়ার ভাই আক্কাস মিয়াকে তারা হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়েছে, এখনো সে চিকিৎসাধীন।

শান্তু মিয়া ও হাবি মিয়ার লোকজনের অত্যাচারে তারা কয়েক দিন ধরে বাড়িতে আসতে পারছে না। এমনকি শিশুরা ভয়ে স্কুলে আসতে পারছে না। নারীরা ঘরে থাকলেও গৃহবন্দি অবস্থায় আছে। এক কথায় তারা উশৃঙ্খল প্রকৃতির লোক। তাদের ভয়ে এলাকার লোকজন প্রকাশ্যে কথা বলতে চায় না।

এ ব্যাপারে লোকমানের স্ত্রী বিউটি আক্তার জানান, আমরা নিরাপত্তা চাই। তাদের ভয়ে আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাই না। আমার স্বামীসহ পরিবারের অন্য পুরুষ সদস্যরা তাদের ভয়ে বাড়িছাড়া।

এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের অভিযুক্ত আঞ্জু মিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের বেশি লোক আছে অস্বীকার করি না। আমরা এখন আপসের পক্ষে। কয়েক দিন আগে মারামারি হয়েছে। তারাও মাইর খাইছে, আমাদের মহিলারাও মাইর খাইছে।

এ ব্যাপারে মদন থানার ওসি সালাউদ্দিন করিম বলেন, ‘আমার থানায় এসব চলবে না। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তাদের বলেন, সন্ধ্যার মধ্যে থানায় আসার জন্য।’

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন