সংসারে চলছে টানাপোড়েন। এজন্য পরিবারের খরচ মেটাতে খণ্ডকালীন চাকরি নেন ১৪ বছরের কিশোরী। মাদরাসা বন্ধ থাকায় প্রতি শুক্রবারই কর্মস্থলে যান মেয়েটি। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। কিন্তু সেদিন তার জীবনে নেমে আসে কালো ছায়া। হন ধর্ষণের শিকার। মেয়ের এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে লোকলজ্জায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মা।
ঘটনাটি ঘটেছে শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী গজনী অবকাশ পর্যটন বিনোদন কেন্দ্রে। মঙ্গলবার রাতে নিজ বাড়িতে বিষপান করেন ওই গৃহবধূ। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বুধবার বিকেলে তার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান আমার দেশের ময়মনসিংহ প্রতিনিধি আবদুল কাইয়ুম।
৭২ ঘণ্টার আগে রোগীর অবস্থা সম্পর্কে কিছুই বলা যাবে না বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার সৌরভ বর্মণ। তিনি পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
বিশোরীর বাবা বলেন, মেয়েটি মাদরাসায় পড়াশোনা করছে। শুক্রবার ক্লাস না থাকায় পরিবারের খরচ মেটাতে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সদস্য হয়ে ঝিনাইগাতীর গারো পাহাড় গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্রে কাজ করে। কিন্তু ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে তাকে ধর্ষণ করেন কালিনগর এলাকার বখাটে যুবক ইলিয়াস।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে লোকলজ্জায় ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বিষপান করেন কিশোরীর মা। তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন বাড়ির লোকজন। এরপর শেরপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসকরা।
এদিকে, এ ঘটনায় মামলার জন্য ভুক্তভোগীর বাবাকে ফোন দিয়েছিলেন ঝিনাইগাতী থানার ওসি মো. আল আমীন। তবে মেয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে মামলা করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
স্ত্রীর প্রসঙ্গে ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে আমার স্ত্রীকে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক।
এদিকে, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগীর পরিবারকে চাপ দিচ্ছে অভিযুক্ত ইলিয়াসের পরিবার।
ঝিনাইগাতী থানার ওসি মো. আল আমীন বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাকে ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

