নেত্রকোনার মদনে আলোচিত ধর্ষণ মামলার আসামি সেই মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বুধবার ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাবের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
আমান উল্লাহ সাগর উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাছহাট গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই গ্রামের একটি মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার ভোরে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি র্যাব আমাদের নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
স্থানীয় বাসিন্দা, এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে সেখানে লেখাপড়া করত। শিশুটির বাবা তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে মা সিলেটে একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।
শিশুটির মা বলেন, গত বছরের ২ নভেম্বর বিকেলে মাদ্রাসা ছুটির পর মাদ্রাসার হুজুর আমার মেয়েরে ডাইক্কা মাদ্রাসাসংলগ্ন মসজিদ ঝাড়ু দিতে বলেন। এ সময় মাদ্রাসার অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যায়। ঝাড়ু শেষে হুজুরের কক্ষে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। কিছুদিন আগে আমি বাড়িত আইসা দেহি আমার মেয়ের পেটটা অনেক বড়। পরে আমি তারে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় হুজুরে এই কাজ করেছে। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হই সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমি থানায় মামলা করেছি। এ ঘটনার বিচার চাই।
মামলার পর শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষা করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয় নানা সমালোচনা।
এদিকে মামলার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক থাকলেও গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে প্রকৃত আসামি নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

