ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ডিলার বাছাইয়ে নেত্রকোনার মদনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, জিসান এন্টারপ্রাইজ নামীয় কোনো মুদি ব্যবসায়ী নেই, আশরাফুল নামের মুদি ব্যবসায়ীর দোকানের সামনে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ছবি তুলে দায় সার। পরে আবার সাইনবোর্ড সরিয়ে নেয়। অপর দিকে মায়ের দোয়া স্টোর নামীয় প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করছে হাঁস-মুরগি ও গরুর গোখাদ্য।
আরো জানা যায়, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তালিকা প্রকাশ করায়, লাবিব এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর সায়েদুজ্জামান হাদিছ নামের এক ব্যবসায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। গত ১৩ জুলাই সোমবার তিনি এ অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগ ও ডিলার নিয়োগের কয়েকজন আবেদনকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নে একজন টিসিবির ডিলার নিয়োগ করা হবে। একজন ডিলারের বিপরীতে ১৬ জন ব্যবসায়ী আবেদন করেন। সেই আবেদন যাচাই-বাছাই করার জন্য উপজেলা পল্লি সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপক হুমায়ূন কবিরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাছাই শেষে ১৬টি আবেদনের মধ্যে লাবিব এন্টারপ্রাইজ, জিসান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া স্টোর নামের তিনজন আবেদনকারী যোগ্য বলে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়।
নিয়মে আছে, আবেদনকারীরা অবশ্যই প্রকৃত মুদি দোকানদার হতে হবে। এর সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হবে।
অভিযোগ উঠেছে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে জিসান এন্টারপ্রাইজ ও মায়ের দোয়া স্টোর নামের দুই ভুঁইফোড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে যোগ্য বলে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ীরা।
লাবিব এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর সায়েদুজ্জামান হাদিছ জানান, ‘যাচাই-বাছাই শেষে যে তিনজন সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছে, তারমধ্যে আমিও একজন। কিন্তু বাকি দুজন প্রকৃত মুদি ব্যবসায়ী নয়।
মুদি ব্যবসায়ী কাজী আলম জানান, ‘আমি ১৯৯৮ সাল থেকে বাররী বাজারে মুদি ব্যবসা করে আসছি। তালিকা থেকে আমাকে বাদ দিয়ে যে তিনজনকে বাছাই করা হয়েছে, এর মধ্যে একজন জিসান এন্টারপ্রাইজের হিরন। সে আশরাফুলের দোকানে সাইনবোর্ড টানিয়ে রেখেছে। হিরণের নামের সার বিক্রির লাইসেন্স আছে। সে মূলতই ধান ব্যবসায়ী।’
বাররী বাজার কমিটির সহসভাপতি ও ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেন জানান, ‘মায়ের দোয়া স্টোর মূলত হাঁস-মুরগি এবং গরু-ছাগল খাদ্যের দোকান। পাশাপাশি ওষুধও বিক্রি করে।’ মায়ের দোয়া স্টোরের প্রোপাইটর মনির হোসাইন জানান, ‘আমি হাঁস-মুরগির খাবারের পাশাপাশি মুদি ব্যবসাও করি।’ জিসান এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর খালেকুজ্জামান হিরণ জানান, ‘যেখানে সাইনবোর্ড টানানো দেখছেন, ওইটা আমার ঘর, আমার ঘরে আমার দোকান। সার বিক্রির জন্য ২০০৯ সালে একটি লাইসেন্স করেছিলাম, কিন্তু পরে আর খোঁজ রাখিনি।’ কাইটাইল ইউনিয়নের তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লি সঞ্চয় ব্যাংকের মদন শাখা ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির জানান, ‘আমি তদন্তে যা পেয়েছি, তা ইউএনওর কাছে জমা দিয়েছি। এ নিয়ে আমার আর কোনা বক্তব্য নেই।’
ইউএনও নাদির হোসেন শামীম জানান, ‘অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

