ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটে নানা সংকটে ধুঁকছে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের শূন্যপদ, চরম জনবল সংকট, অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত দুর্ভোগের কারণে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাট উপজেলার ১৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৮টিতে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। বাকি ১০৭টি বিদ্যালয়ের ৪৫টিতে চলছে ভারপ্রাপ্ত এবং ৬২টিতে চলছে চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক দিয়ে। ফলে প্রশাসনিক তদারকির অভাবে অনেক স্কুলেই ঢিমেতালে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। ৯১৩টি সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮০৯ জন।
শুধু বিদ্যালয় নয়, সংকট রয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও। পাঁচজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের (এটিও) বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরের পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় একজন উচ্চমান সহকারীকে দিয়ে হোঁচট খেয়ে চলছে দাপ্তরিক কাজ।
অন্যদিকে যোগাযোগব্যবস্থার বেহাল দশায় বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। গোপীনগর, বটগাছিয়াকান্দা, পূর্বকালিয়ানিকান্দা, বোয়ালমারা, পূর্বনড়াইল, মহাজনীকান্দা, ঝাউগড়া ও উত্তর ইটাখলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সংলগ্ন রাস্তাগুলো বর্ষাকালে প্রায়ই বন্যা ও কাদা-পানিতে তলিয়ে যায়। বন্যাকবলিত এসব এলাকায় তখন পাঠদান করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ ছাড়া পশ্চিম নিশ্চিন্তপুর, ঝুলঝলিয়া, রুহিপাগাড়িয়া মির্জাপাড়া, পলাশতলা দুলাল উদ্দীন, নলুয়া, বড়খালের পাড়, গুনিয়ারীকান্দা মধ্য ও গুনিয়ারীকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাঁচা এবং খানাখন্দে ভরা রাস্তাগুলো বর্ষায় চলাচলের একদম অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যাতায়াত প্রতিকূলতায় এসব স্কুলে শিক্ষার্থী সংকট প্রকট রূপ নেয়।
পৌরশহরের স্কুলগুলোতেও সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। জলাবদ্ধতার কারণে স্কুলের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী আলিফ জানায়, ‘দুদিন যাবৎ বৃষ্টির কারণে ক্লাস বন্ধ রয়েছে।’ সহকারী শিক্ষক নুরে আলম জুয়েল জানান, ‘সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ক্লাস রুমে পানি ঢুকে যায়, ক্লাস নেওয়ার কোনো উপায় থাকে না।’ একই অবস্থার সৃষ্টি হয় দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। একই চিত্র দেখা যায় পৌর উত্তর সরকারি ও আকনপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম সংকটের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
অবকাঠামো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি উত্তর মাছাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে। ২০১৩ সালে স্কুলটি সরকারীকরণ করা হলেও এখনো টিনশেড ঘরে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। রামখালীকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় চরম ঝুঁকিতে চলছে পাঠদান।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, উপজেলায় ৪০টি কেজি স্কুল, ১১টি এনজিও বিদ্যালয় এবং ৪৪টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও এসব স্কুলে নেই প্রশিক্ষিত ভালো মানের কোনো শিক্ষক।বর্তমানে ১৬৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ২৪ হাজার ৫৯২ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দুই হাজার বেশি।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার শেলিমা আক্তার খাতুন জানান, অনতিবিলম্বে শূন্যপদে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষ এবং যোগাযোগব্যবস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

