বগুড়ার শেরপুরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জামিল শেখ হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হলেও পলাতক অন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কের ধুনট মোড়ে ‘শেরপুর উপজেলার সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক’ ব্যানারে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। কর্মসূচি চলাকালে মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও পথচারীদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া পড়ে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি সদস্য আসাদ, নিহত জামিল শেখের পিতা রফিকুল ইসলাম, চাচা ইউনুস আলী, এলাকাবাসী আব্দুর রাজ্জাক, জনি, রাশেদা, মোস্তাকিম, রাসেল, লিটন, রাজু, শাহিন, শাহ আলী, সনিয়া আক্তার, আছিয়া বেগম ও রইতন বেওয়া।
বক্তারা বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হলেও অন্য আসামিরা এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অবিলম্বে অবশিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
বক্তাদের দাবি, জামিল শেখ একটি বিএনপি-সমর্থক পরিবারের সন্তান ছিলেন। ঘটনার দিন তিনি খেলায় অংশ নেননি; দর্শক হিসেবে মাঠে উপস্থিত ছিলেন। খেলার একপর্যায়ে একটি গোলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য তিনি এগিয়ে যান। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়ে তার মৃত্যু হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডার এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে।
বক্তারা বলেন, একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রাণহানি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে। তাই রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, হত্যা মামলার তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বা বিলম্ব যেন না ঘটে। নিহত জামিল শেখের পরিবার যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জামিল শেখ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কোনো অপরাধী যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম মইনুদ্দিন বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট শেরপুর উপজেলার একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জামিল শেখ নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার শেরপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তবে মামলার অন্য আসামিদের এখনও গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় তাদের দ্রুত আটক ও বিচারের দাবিতে স্থানীয়দের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

