ক্রেতা নেই, হিমাগার থেকে আলু নিচ্ছে না কৃষকরা

ক্রেতা নেই, হিমাগার থেকে আলু নিচ্ছে না কৃষকরা

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আলু নিয়ে বিপাকে আছেন। প্রত্যাশিত দাম না পাওয়া এবং চাহিদা কম থাকায় বাজারে আলুর দাম কম। ফলে হিমাগারে মজুত রাখা আলু নিচ্ছে না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

উৎপাদন, পরিবহন ও হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি ৬০ কেজির বস্তায় বর্তমানে গড়ে প্রায় ৪৬০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত হিমাগারে সংরক্ষিত আলুর মাত্র প্রায় ২২ শতাংশ খালাস হয়েছে। এখনও প্রায় ৭৮ শতাংশ আলু হিমাগারে পড়ে আছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ আলু খালাস হয়েছিল। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার হিমাগার থেকে আলু বের হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বর্তমানে হিমাগার গেটে ৬০ কেজির এক বস্তা আলু ৯২০ থেকে ৯৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ উৎপাদন, পরিবহন, বাছাই ও হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি বস্তায় কৃষকের খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। ফলে ৯২০ টাকা দরে বিক্রি করলে ৪৮০ টাকা এবং ৯৬০ টাকা দরে বিক্রি করলে ৪৪০ টাকা লোকসান হচ্ছে। মাঝামাঝি ৯৪০ টাকা ধরে গড়ে বস্তাপ্রতি লোকসান দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪৬০ টাকা।

কালাই উপজেলার তেলিহার গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন, আকলাপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদ ও নয়াপাড়া গ্রামের সিরাজুলসহ কয়েকজন কৃষক জানান, বাজার নিম্নমুখী হওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি করলেই বস্তাপ্রতি গড়ে প্রায় ৪৬০ টাকা লোকসান হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জয়পুরহাটে ৩৯ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার টন। জেলার ২২টি হিমাগারে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৯৮২ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এদিকে আমন ধানের মৌসুম শুরু হওয়ায় কৃষকদের জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার ও শ্রমিকের মজুরিসহ বিভিন্ন খরচ মেটাতে অর্থের প্রয়োজন। সাধারণত এ সময় হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি করে এসব খরচ মেটান তারা। কিন্তু দাম কম থাকায় আলু বিক্রি করতে না পারায় একদিকে হিমাগারে মূলধন আটকে আছে, অন্যদিকে আমন চাষের অর্থ জোগাড়েও সংকট দেখা দিয়েছে।

আলুর বাজারে মন্দার প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়ীদের ওপরও। কালাই উপজেলার পুনট হাটের ব্যবসায়ী মিঠু ফকির ও সাইদুর রহমান জানান, বিভিন্ন বাজারে আলু পাঠিয়েও লাভ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে প্রতি ট্রাকে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী কেনাবেচা করছেন না।

কালাই উপজেলার বৈরাগীহাটের আলু ব্যবসায়ী মাহবুব বলেন, সংরক্ষণ মৌসুমে অনেক ব্যবসায়ী ঋণ নিয়ে আলু কিনে মজুত করেছিলেন। এখন বাজার পড়ে যাওয়ায় আলু বিক্রি করে সেই ঋণ পরিশোধ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

আলু রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সূচি এন্টারপ্রাইজের’ স্বত্বাধিকারী মো. সুজাউল ইসলাম বলেন, তারা দীর্ঘ নয় বছর ধরে বিভিন্ন দেশে আলু রপ্তানি করছেন। এবার বিদেশি বাজারে চাহিদা কম থাকায় রপ্তানিও প্রত্যাশিত পর্যায়ে হয়নি।

কালাই পৌর এলাকার সরাইলে এম ইসরাত হিমাগারের ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন ও সালামিন কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আইয়ুব আলী জানান, তাদের হিমাগারে গত মার্চে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার বস্তা খালাস হয়েছে। বিপুল পরিমাণ আলু এখনও হিমাগারে পড়ে থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খালাস করা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় আলুর দাম কমেছে। বাজার সচল করা এবং কৃষক যাতে যৌক্তিক দাম পান,সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন