সুইডেনে পড়তে অনুদান পেলেন বগুড়ার নাজমুল

রিকশাচালকের ছেলের স্বপ্নপূরণে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা

রিকশাচালকের ছেলের স্বপ্নপূরণে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা
ছবি: আমার দেশ

রিকশাচালকের ছেলে। মেধার জোরে সুইডেনের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য শতভাগ টিউশন ফি মওকুফসহ (ফুল স্কলারশিপ) সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু বিদেশযাত্রা, আবাসন ও প্রাথমিক জীবনযাপনের ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় সেই স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল হাসান। এ সময় তার উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

নাজমুল শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের রিকশাচালক আয়নাল হকের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে রিকশা চালিয়ে দুই ছেলের পড়াশোনার ব্যয় বহন করে আসছেন তার বাবা। পরিবারের ছোট ছেলে আতিক হাসান এবার শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।

বর্তমানে নাজমুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স (থিসিস) শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক।

সম্প্রতি তিনি সুইডেনের University of Skövde-এ মাস্টার্স ইন বায়োসায়েন্সে ভর্তির জন্য শতভাগ টিউশন ফি মওকুফসহ পূর্ণ বৃত্তি অর্জন করেন। তবে বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা থাকলেও বিমানভাড়া, আবাসন এবং প্রাথমিক জীবনযাপনের ব্যয় বহনের সামর্থ্য ছিল না তার পরিবারের। ফলে অনিশ্চয়তায় পড়ে তার বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা।

নাজমুল বলেন, ছোটবেলা থেকেই তারেক রহমান আমার আদর্শ। জিয়া পরিবারের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতি করেছি। সুইডেনে পড়ার জন্য শতভাগ স্কলারশিপ পেয়েছি। কিন্তু সেখানে থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করার মতো সামর্থ্য আমাদের পরিবারের নেই। আমার বাবা একজন রিকশাচালক। তার পক্ষে এই ব্যয় বহন করা সম্ভব ছিল না।

তিনি বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার চেষ্টা করি। পরে শেরপুরের ডা. মনজুর রশিদের সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী চিকিৎসক ডা. এ.এন.এম. মনোয়ারুল কাদির বিটুর মাধ্যমে আমার আবেদনপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি বিষয়টি বিবেচনা করে আমাকে সহায়তার ব্যবস্থা করেন।

নাজমুল আরও বলেন, বাবাকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হয়। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে আমার কথা শুনেছেন এবং আমাকে দোয়া করেছেন। পাশাপাশি মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে একজন দক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে ওঠার এবং ভবিষ্যতে দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তিনি যদি আমার পাশে না দাঁড়াতেন, তাহলে হয়তো সুইডেনে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতো না। তার এই সহায়তা আমার জন্য শুধু আর্থিক সহযোগিতা নয়, এটি নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। আমি এই সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।

সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নাজমুল বলেন, ডা. এএনএম. মনোয়ারুল কাদির বিটু, ডা. মনজুর রশিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আরিফ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুলসহ যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত নাজমুল বলেন, প্রত্যেক মানুষের জীবনে একজন অনুপ্রেরণার মানুষ থাকেন। আমার রাজনৈতিক জীবনে তারেক রহমান সেই অনুপ্রেরণার নাম। তাকে সামনে থেকে দেখা, এবং নিজের কথা বলার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে আমার কথা শুনেছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য উৎসাহ দিয়েছেন।

রিকশাচালকের পরিবারের সন্তান হয়েও মেধা, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ অর্জন করেছেন নাজমুল হাসান। প্রধানমন্ত্রীর এই সহায়তায় তার সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবের আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন