নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভায় আরসিসি ড্রেন ও স্লাব নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধসহ চিঠি দিয়েও কাজ শেষ করাতে পারছে না পৌর কর্তৃপক্ষ। ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ ড্র্রেনের কাজ শেষ না হওয়ায় অবরুদ্ধ জীবনযাপন করছে শতাধিক পরিবার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে নাটোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিনথিয়া আলামিন আনিসুর নামে যৌথ প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। কাজের বিলও নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয়ভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছেন পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সেলিম শাহ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের গেট থেকে সুফিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ২০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ড্রেন ও স্লাব নির্মাণের জন্য জনচলাচলের একমাত্র রাস্তাটি কেটে গর্ত করে রাখা হয়েছে। চার মাস ধরে যাতায়াতের রাস্তা নেই। প্রকল্পটির ১৩০ মিটার ঢালাই ও স্লাব বসানোর কাজ শেষ। কিন্তু পশ্চিমাংশে রড বসানো হলেও ঢালাই করা হয়নি। সেখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। ধসে যেতে বসেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাচীর।
এদিকে ১০ মার্চ যৌথভাবে ড্রেনটি নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন স্থানীয় এমপি আব্দুল আজিজ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফাহমিদা আফরোজ। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয় ৬ মাস। সে অনুযায়ী ১০ আগস্ট নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল হোসেন ও মাসুদ রানাসহ অনেকে জানান, যাতায়াতের রাস্তায় ড্রেনসহ স্লাব বসানোর কাজটি ধীর গতিতে হচ্ছে। এতে শতাধিক পরিবারের মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় নিচের রডের ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে পৌর প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।
পৌর প্রকৌশলী আবুু রায়হান জানান, নিম্নমানের উপকরণ ও রড ব্যবহার করায় মাঝখানে নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। ২৬ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিডিউল মোতাবেক কাজটি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কাজ শুরু হলেও ঢালাইয়ে নিম্নমানের পাথর ও ১২ মিলিমিটার রডের সঙ্গে ৮ মিলিমিটারের রড ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিধিমেনে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মাসুম আলী মুঠোফোনে বলেন, তার ঠিকাদারি লাইসেন্সে কাজটি করছেন সেলিম শাহ। দায়দায়িত্বও তার। তবুও তদারকি করা হচ্ছে।
সেলিম শাহ বলেন, বৃষ্টির কারণে কাজে বিলম্ব হয়েছে। দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ শেষ করা হবে।
পৌর প্রশাসক ফাহমিদা আফরোজ বলেন, নির্মাণ কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য পৌর নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

