অন্তর্বর্তী সরকারের সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান প্রফেসর ড. আলী রিয়াজ বলেছেন, যুগের পর যুগ দেশে যে বৈষম্য তৈরি হয়েছিল, সেটা আমরা কয়েক মাসে ঠিক করে দিবো এটা ভাবার সযোগ নেই। তবে ২৪ আন্দোলন বলে দিচ্ছে আপনারা পারেন। ৯০ এর আন্দোলন বলে দেয় আপনারা পারবেন। অনেকে বলেছিল বাংলাদেশ টিকবে না। দেশের জনগণ দেখিয়ে দিয়েছেন সম্ভাবনাময় নতুন বাংলাদেশ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীণবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্যেশে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আমরা সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি। মেধা পরিশ্রম নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার কারণে সবাইকে এখানে নিয়ে আসছে। অন্যদের সহযোগিতা ছাড়া এককভাবে সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। প্রতি মুহূর্তে স্বরণ করতে হবে পর্দার অন্তরালের লোকদের। যাদের অবদানের কারণে এখানে আসছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা থাকতে হবে।
একে অপরের প্রতি সহমর্মিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে যে জ্ঞানের চর্চা করবে সেটার সহমর্মিতা থাকতে হবে। সুবিধা বঞ্চিতদের জন্য সহমর্মিতাবোধ থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা হলো মুক্ত চিন্তার শিক্ষা। আপনারা জ্ঞানের চর্চা করবেন। সেটা যেভাবেই হোক। পত্রিকার খবর পড়বেন, আর্টিকেল পড়বেন, সবই জ্ঞান চার্চার মাধ্যম। সমাজের সবার থেকে শিক্ষা নিতে হবে। যিনি কোন মহা বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেননি তাদের থেকেও শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় কোরআন তেলোয়াত ও জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে শহীদদের জন্য ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে শহীদ ও আহতদের জন্য দোয়া করা হয়।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ড. এসএম আব্দুল আওয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. মো. আনোয়ারুল আজিম আকন্দ, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নকীব মুহাম্মদ নাসরুল্লাহ, রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. এসএম আব্দুর রাজ্জাকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ পাবনায় কর্মরত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

