চাটমোহরে প্রতিদিন ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং

চাটমোহরে প্রতিদিন ১৪ ঘণ্টা লোডশেডিং
ছবি: আমার দেশ

পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ চাটমোহরের আওয়াতাধীন বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা প্রায় এক মাস যাবৎ ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে দিনাতিপাত করছে। এর সঙ্গে শ্রাবণের তীব্র গরমে অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে প্রাণীকুল। লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে গরু-ছাগল, হাঁস, মুরগির খামারিরা।

এই পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা ২৪ ঘণ্টায় ১২/১৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছেন। গ্রামাঞ্চলের চিত্র আরো ভয়াবহ।

বিজ্ঞাপন

অফিস আদালত থানা হাসপাতাল থাকার পরেও চাটমোহর পৌরসভা অন্তর্গত এলাকায় উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে লোডশেংডি। বিদ্যুৎ বিতরণে সমন্বয়হীনতার বিষয়ে কারণ হিসেবে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, পৌরসভার মধ্যে হাসপাতাল, ব্যাংক, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অফিস থাকায় এখানে বিদ্যুৎ আলাদা ফিডারের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টায় ১২ ঘণ্টার মতো লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ থেকে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন ৫টি উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ ৯৬ হাজার গ্রাহকের মধ্যে সমানভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে। সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে লোডশেডিং করা হয়।

প্রতিদিন গড়ে ১২/১৪ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশুরা ও বাড়িতে থাকা অসুস্থ বয়স্ক মানুষদের পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ঘটছে হিট স্ট্রোকের মতো ঘটনা। বিদ্যুৎ নির্ভর স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রদানও ব্যাহত হচ্ছে।

পোল্ট্রি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে ভয়াবহ বিদ্যুৎ লোডশেডিং এই দুই মিলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। হিট স্ট্রোকের কারণে অনেক খামারে মুরগি মারা যাচ্ছে। লোডশেডিং-এর কারণে ডিমের প্রোডাকশন ব্যাহত হচ্ছে। সকাল, বিকাল ও রাতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে।

পাবনার চাটমোহর পৌর এলাকার ইলেকট্রনিক মেকানিক ময়লাল হোসেন বলেন, লোডশেডিং এবং তীব্র গরমের কারণে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানে কোনো কাজ করা যায় না। ২-৩ জন কর্মচারীকে প্রতিদিন টাকা দিতে হয়, কিন্তু কাজ কিছুই হয় না। দিন-রাত সমানভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে। ব্যবসায় ব্যাপক লোকসান হচ্ছে, কি আর করব, কাকে দোষ দেব।’

চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাক্তার হুমায়ুন কবির জানান, বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং তীব্র গরমের কারণে ডায়রিয়া এবং আমাশয়ের রোগী বাড়ছে হাসপাতালে। তিনি সবাইকে বেশি করে ঠান্ডা পানি পান করার পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে বের হতে নিষেধ করেন।

পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল আমিন চৌধুরী বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে লোডশেডিং কিছুটা বেড়েছে। শুধু এই পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকেই লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে না, সারা দেশেই একই সমস্যা। আমাদের এই পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন বিদ্যুৎ চাহিদা থাকে প্রতিদিন ৭৯ মেগাওয়াট। সেখানে আমাদের সরবরাহ করা হচ্ছে ৫৬ মেগাওয়াট। আমরা বাধ্য হয়েই ৩০% লোডশেডিং করছি।

তিনি আরো বলেন, ‘গ্রাহক অসন্তোষ প্রশমনে আমাদের ওয়েবসাইট থেকে প্রতিদিন কোনো কোনো এলাকায় কত সময় লোডশেডিং থাকবে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। উচ্চপর্যায়ের মিটিং হয়েছে আশা করি দ্রুত এই সমস্যা সমাধান হবে।’

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন