পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে খুলে দেওয়া হয়েছে যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের ঢাকা-বগুড়া-রংপুরগামী ফ্লাইওভার লেন। নতুন এই লেন চালুর ফলে দীর্ঘদিনের যানজট ও ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে স্বস্তি ফিরে এসেছে মহাসড়ক ব্যবহারকারী যাত্রী ও চালকদের মাঝে।
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জ জেলার ওপর দিয়েই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যমুনা সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়ক নির্মিত হয়েছে। এই মহাসড়ক ব্যবহার করে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ২২ জেলার যানবাহন চলাচল করে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ঈদকে ঘিরে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজারে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে প্রায়ই সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রীদের।
যমুনা সেতুর পশ্চিম গোলচত্বর থেকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার মহাসড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকেই ঢাকা-পাবনা, রাজশাহী, বগুড়া ও রংপুরমুখী যানবাহন পৃথক হয়ে যায়। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে গত ২১ মে পরীক্ষামূলকভাবে খুলে দেওয়া হয় হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের নতুন লেনটি।
ঢাকা থেকে রংপুরগামী বাসচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, “আগের তুলনায় এখন মহাসড়কের পরিস্থিতি অনেক ভালো। গত দুই-তিন বছরে সিরাজগঞ্জ অংশে তেমন বড় যানজট হয়নি। এবার ঈদের আগে ইন্টারচেঞ্জ লেন চালু হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে।”
ট্রাকচালক হামিদুল ইসলাম বলেন, “নতুন এই লেন চালু হওয়ায় মালবাহী যানবাহন দ্রুত চলাচল করতে পারবে। এতে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং ঈদযাত্রা অনেকটাই নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করছি।”
সাসেক-২ প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক সরফরাজ হোসাইন জানান, হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণকাজ এখনও চলমান রয়েছে। তবে ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা থেকে রংপুরগামী লেনটি চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গগামী প্রায় ৬০ শতাংশ যানবাহন এই লেন ব্যবহার করবে। এতে যানজট কমবে এবং ঈদযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে।” তিনি আরও জানান, প্রায় ৭৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক মানের হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, “জেলার মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঘরমুখো মানুষ ও গরুর ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা নিরাপত্তাহীনতায় না পড়েন, সেজন্য জেলা পুলিশের ৬ শতাধিক সদস্য দিনরাত মাঠে কাজ করছেন।”
সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন এই ফ্লাইওভার লেন চালুর ফলে এবারের ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গমুখী যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে এবং মহাসড়কে যান চলাচল হবে আরও স্বাভাবিক ও নিরাপদ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

