বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খার বাস্তবায়ন হবে না। সুতরাং প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করেই নির্বাচন দিতে হবে। শনিবার দুপুরে বগুড়ায় শহীদ টিটু মিলনায়তনে জেলা জামায়াত আয়োজিত ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী, সাথী ও সদস্যদের প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় বগুড়ায় আগামী নির্বাচনের ৭ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, যারা জামায়াত-শিবিরের দিকে চোখ রাঙানোর চেষ্টা করছেন তারা সাবধান হয়ে যান। এই দেশ কারো বাপের কিংবা কারো পারিবারিক সম্পত্তি নয়। এই দেশ ১৮ কোটি মানুষের। দেশের মানুষ যাকে চাইবে তারাই দেশ শাসন করবে।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে সৎ, যোগ্য, দূর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব তৈরি করছে। শিবিরের তৈরি এই নেতৃত্বই একদিন জাতিকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি মুক্ত, মানবিক, কল্যাণময় বাংলাদেশ উপহার দিবে। যারা সংস্কারের বিরোধিতা করে দ্রুত নির্বাচনের তাড়া দিচ্ছেন তাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা সংস্কার না করেই নির্বাচন দাবি করছেন তারা মূলত: শেখ হাসিনার দু:শাসনকেই ফিরিয়ে আনতে চান। যারা নেত্রীর বাড়ির সামনে থেকে বালুর ট্রাক সরাতে রাস্তায় নামার সাহস পায়নি তারা আজ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করছেন।
তিনি বলেন, সরকারের ভেতরে-বাইরে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা সক্রিয় রয়েছে। পলাতক নেত্রীর কথায় অনেকেই উঁকি-ঝুঁকি মারছেন। যতই উঁকি-ঝুঁকি মারেন লাভ নাই। যত উঁকি-ঝুঁকি মারবেন বিপদ ততই বাড়বে। গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার দোসররা কেবলমাত্র ফাঁসির আসামি হিসেবেই দেশে ফিরবেন। যারা জামায়াতের নিরপরাধ শীর্ষ নেতাদের হত্যা করেছে, তাদের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।
জেলা জামায়াত আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ও আন্তর্জাতিক ছাত্র ও যুব ফেডারেশন (ইফসু)’র সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

