তেল নিতে গিয়ে ছাত্রদল নেতার তাণ্ডব, সাজা ঘোষণার পর রহস্যজনক মুক্তি

উপজেলা প্রতিনিধি, পুঠিয়া (রাজশাহী)

তেল নিতে গিয়ে ছাত্রদল নেতার তাণ্ডব, সাজা ঘোষণার পর রহস্যজনক মুক্তি

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ফিলিং স্টেশন এলাকায় তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ছাত্রদল নেতা আব্দুস সবুর বুলেটকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩ দিনের কারাদণ্ড ঘোষণা করলেও পরবর্তীতে তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বানেশ্বর ফিলিং স্টেশনে সিরিয়াল ভেঙে অবৈধভাবে তেল নেওয়ার চেষ্টা করলে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আব্দুস সবুর বুলেট প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বাধা দিলে তিনি তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার একপর্যায়ে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে তাকে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ঘটনাস্থলেই তাকে ৩ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে উপস্থিতদের জানানো হয়। তবে রহস্যজনকভাবে কিছু সময় পরই তাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, একই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বানেশ্বর ফিলিং স্টেশনে মো. সম্রাট হোসেন (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুঠিয়া থানা পুলিশ। তিনি নামাজগ্রাম পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঘটনাস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। পুলিশ জানায়, তাকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, “বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত দণ্ড ঘোষণা করে, সেখানে কীভাবে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে ছেড়ে দেওয়া হলো? এর পেছনে কোনো প্রভাব বা চাপ কাজ করেছে কি না, তা নিয়েও এলাকায় আলোচনা চলছে।

উল্লেখ্য, আব্দুস সবুর বুলেট রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও দুর্গাপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব। তার বাড়ি দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের হোজা গ্রামে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন