নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে সরকার কাজ শুরু করেছে জানিয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের বন্ধ থাকা সব চিনিকল নতুন করে চালু করে নিজস্ব সম্পদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এর জন্য শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। কর্মকর্তা-কর্মচারী, আখচাষি ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
শুক্রবার বিকেলে নাটোরের লালপুরে অবস্থিত নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেডের ৯৪তম আখ মাড়াই মৌসুমের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া প্রভিডেন্ট ফান্ড ও প্রণোদনার অর্থ বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে পরিশোধ করেছে। এখন প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলকে পুনরায় একটি সফল ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে চায়। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বসে কেউ সার্বিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করলে প্রয়োজনে কঠোর আইনি অবস্থান নেওয়া হবে। ‘বাংলাদেশ সবার আগে, বাংলাদেশ সবার জন্য’—এই প্রত্যয় নিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সুন্দর বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভা শেষে মিলের কেইন ক্যারিয়ার প্রাঙ্গণে ডোঙায় আখ নিক্ষেপের মাধ্যমে ২০২৬-২৭ মাড়াই মৌসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান (সুরুজ)। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান।
মেইল সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে ১১৩ কার্যদিবসে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ১১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার চিনি আহরণের (রিকভারি) হার ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।
গত মৌসুমে ১ লাখ ৭১ হাজার ৯৮২ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৯ হাজার ৬৫৪ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করা হয়েছিল। সে তুলনায় এবার আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৮ হাজার ১৮ মেট্রিক টন এবং চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৪৬ মেট্রিক টন বাড়ানো হয়েছে।
আখচাষিদের উৎসাহিত করতে চলতি মৌসুমে আখের দাম প্রতি কুইন্টাল ৬২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবছর প্রায় ১৫ কোটি টাকার কৃষি উপকরণ ঋণ হিসেবে বিতরণ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি আখের মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই চিনিকলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৫ হাজার আখচাষি পরিবার সম্পৃক্ত।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি সুরাইয়া বেগম, মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া, লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোলাম, সিবিএ সভাপতি মোমিনুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পিন্টুসহ মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

