পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের বিখ্যাত আসমানী কবিতার সেই জরাজীর্ণ ঘরের চিত্র যেন বাস্তবে ফুটে উঠেছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার শতবর্ষী দিঘলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টির দুটি ভবনই জরাজীর্ণ। আর এই জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে বসেই লেখাপড়া করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কোথাও টিনের ছাউনি ফুটো, কোথাও পাকা ভবনের ছাদ ও দেয়াল থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। তার ওপর রয়েছে শ্রেণিকক্ষ ও বেঞ্চের তীব্র সংকট। ফলে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে বিদ্যালয়টিতে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯২৬ সালে ৩৫ শতক জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি অনুমোদন পায়। ১৯৯২ সালে নির্মাণ করা হয় তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনশেড ভবন। গত ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে নির্মিত হয় দুই কক্ষবিশিষ্ট পাকা ভবন। তবে দীর্ঘদিন ধরে ভবন দুটির কোনো প্রকার সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১২৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের পাঠদানের জন্য রয়েছেন ছয়জন শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন সাতটি শ্রেণিকক্ষ। সেখানে রয়েছে মাত্র পাঁচটি। কক্ষ সংকটের কারণে পঞ্চম ও প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একই কক্ষে পাঠদান করানো হচ্ছে। একই সময়ে দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠ চলায় শ্রেণিকক্ষে শব্দ ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
পাকা ভবনটির অবস্থাও নাজুক। ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। কোথাও ছাদের রড বেরিয়ে এসেছে। দরজা-জানালার অবস্থাও ভালো নয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনটি ব্যবহার নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, শতবর্ষী এই বিদ্যালয়ের সমস্যা ও সংকটের বিষয়গুলো শিক্ষা কর্মকর্তাসহ উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
ধুনট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইয়্যেদা জাহান বানু বলেন, বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য শিক্ষা বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দসাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

