জামায়াতকে দমাতে যে আইন, সে আইনেই হাসিনার ফাঁসির রায়

উপজেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী)

জামায়াতকে দমাতে যে আইন, সে আইনেই হাসিনার ফাঁসির রায়

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, অন্যায়, জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন করে কেউ টিকতে পারে না ও পারেনি। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার মনে করেছিল ফাঁসি, অন্যায়, জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন করে জামায়াতকে দমানো যাবে। তাই তারা আইন করে জামায়াত নেতাদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি দিয়েছে। জামায়াত নেতাকর্মীদের ঘরে থাকতে দেয়নি, বসতে দেয়নি, এমনকি বিয়ের দাওয়াত খেতে গেলে সেখানেও নাশকতা করছি বলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কী হয়েছে তাতে। এতে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ইমান আরও বেড়েছে। শক্তিশালী হয়েছে জামায়াত। কিন্তু আল্লাহর কী বিচার, সে আইনেই ফ্যাসিস্ট হাসিনার ফাঁসির রায় হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ জামায়াত অফিস চত্বরে নির্বাচনি দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেন।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ৭০ জন হাফেজ ও ৪০০ জন আলেম জীবন দিয়েছেন। জামায়াত নেতাদের আইন করে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবকে জুলুম করে বিদায় করা হয়েছে। সেগুলোর প্রতিশোধ আমরা কারো ওপর নিবো না, বাংলাদেশের সংসদে ইসলামী নেতৃত্ব পাঠিয়ে এ জুলুমের বিচার ও জবাব দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ২৪ গণঅভ্যুত্থানের কারণে ৪১ সাল পর্যন্ত যে রানী স্বপ্নে থাকা স্বপ্ন দেখছিল তিনি পালাতে বাধ্য হয়েছেন। সৃষ্টি হয়েছে নতুন বাংলাদেশের। যে বাংলাদেশের জনগণ অনিয়ম, দুর্নীতি, টাকা পাচার, বৈষম্য দেখতে চায় না। তাই বাংলাদেশের জনগণ মনে করছে ভারতের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে আগামীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রয়োজন। ঘরে ঘরে, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে জামায়াতের সুর উঠেছে। তাই বসে থাকার দিন নেই, ভোটের মাঠে কাজ করুন।

তিনি বলেন, যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখি হত্যা করলে বিচার হতো, অথচ শিবির হত্যা করলে বিচার হতো না, সেখানে এখন শিবির নারায়ে তাকবির আল্লাহ আকবার বলছে। মুক্তবাতাসে শিবিরের ছাত্র রাজনীতি করছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় কেন্দ্রীয়, মহানগর, জেলা ও উপজেলা অফিসে ঢুকতে এবং বসতে পারিনি। এখন পুরো বাংলাদেশ জামায়াতের জন্য উন্মুক্ত। এ থেকে বুঝতে পারছেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ। তাই বসে না থেকে ঘরে ঘরে গিয়ে দাড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চান। পাড়ায় পাড়ায়, গ্রামে গ্রামে কমিটি করেন। ভোটের দিন পর্যন্ত মাঠে কাজ করুন।

উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রশিদ শাহর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি ফেরদৌস আলমের সঞ্চালনায় নির্বাচনি দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও সৈয়দপুর উপজেলা আমির হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম। বক্তব্য রাখেন নীলফামারী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ড. খাইরুল আনাম, দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ড. এনামুল হক, নীলফামারী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র শিবির রংপুর মহানগরের সভাপতি নুরুল হুদা, কিশোরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আক্তারুজ্জামান বাদল, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনজুরুল ইসলাম রতন, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রবিউল ইসলাম, শিব্বির আহমেদ, পুটিমারী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা আফজালুল হক প্রমুখ।

নির্বাচনি দায়িত্বশীল সমাবেশে জামায়াতের নারী-পুরুষ ৪৬০ জন দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...