বেরোবিতে ছাত্রদল ও শিবিরের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত ২

বেরোবি প্রতিনিধি

বেরোবিতে ছাত্রদল ও শিবিরের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত ২

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শাখা ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত অন্তত ২ জন।

সোমবার দিনব্যাপী শাখা ছাত্রশিবির ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন করে। সেখানে জুডিশিয়াল কিলিং শিরোনামে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের শীর্ষ কয়েকজন নেতা ছাড়াও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি ছিল। শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে ব্যানারটি সরাতে বলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ইট পাটকেল, চেয়ার নিক্ষেপসহ লাঠি দিয়ে আঘাতের ঘটনাও ঘটে।

বিজ্ঞাপন

আহতরা হলেন: ছাত্রদলের সহ সভাপতি আশিক ও ছাত্রশিবির নেতা মেহেদী।

পরে লোহা ও প্লাস্টিকের পাইপ এবং ইট পাটকেল নিয়ে বেরোবির প্রধান ফটকের সামনে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান নেয় তারা। এসময় বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।

বেরোবির ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব মুরাদ বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। তাদের যদি কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে প্রশাসনের মাধ্যমে আসাদের জানালে আমরা সমাধান করতাম।

ছাত্রদল সভাপতি ইয়ামিন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে ছাত্রশিবিরের সাথে কথা বলতে গিয়েছিলাম কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।

সেখানে মহানগর ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক সামছুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক, আইন সম্পদক রিফাত, সদর উপজেলার দপ্তর সম্পাদক আসিফ, পীরগঞ্জ ছাত্রশিবির সভাপতি, বেরোবির সাবেক সভাপতি জাকারিয়া হাসান, হোসেল রানা, কারমাইকেল কলেজ সভাপতি মাহমুদল হক, মহানগর ছাত্রশক্তির সংগঠক নাঈমসহ বহিরাগত ছাত্রশিবিরের শতাধিক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বাঁশ ও লোহার পাইপ নিয়ে।

তবে দুই ঘণ্টায় কোনো পুলিশকে দেখা যায়নি সেখানে। রাত ১০ টার দিকে তাজহাট থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলামকে বেরোবিতে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তবে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাত ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফকটের সামনে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকত আলী বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের সিন্ডিকেটের ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল দুটি অ্যাপ্লিকেশন জমা দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি চালু করার জন্য। আমরা একটা কমিটি করে দিয়েছি। কমিটির রিপোর্ট পেলেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারব। ছাত্রশিবির বা ছাত্রদল ক্যাম্পাসে যে কর্মসূচিগুলোর জন্য অনুমতি নেয় প্রশাসন থেকে তারা সাধারণ শিক্ষার্থী উল্লেখ করেই আবেদন করেন। আমরা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের প্রতিনিধি নিয়ে মিটিং করেছি। তারা ক্যাম্পাসে এক সাথে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

প্রায় ১ ঘণ্টা কুড়িগ্রাম ঢাকা মহাসড়ক বন্ধ ছিলো। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সাড়ে ১১ টার দিকে বেরোবির গেটে অবস্থান নেয় ছাত্রশিবির।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন