বিস্ময়কর প্রতিভা হেলেন কেলার

বিস্ময়কর প্রতিভা হেলেন কেলার

হেলেন কেলারের পুরো নাম হেলেন অ্যাডামস কেলার (Helen Adams Keller)। তিনি কানে শুনতেন না, কথা বলতে পারতেন না, চোখেও দেখতে পেতেন না। কিন্তু কোনো বাধাই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। বাক, শ্রবণ ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা নিয়ে মাত্র ২৪ বছর বয়সে তিনি স্নাতক হন এবং ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকারের জন্য আজীবন লড়াই করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন একজন লেখক ও রাজনীতিবিদ।

হেলেন কেলার ১৮৮০ সালের ২৭ জুন আমেরিকার আলাবামায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ছিল আর্থার কেলার এবং মা কেইট অ্যাডামস। হেলেন কেলারের বয়স যখন ১৯ মাস, তখন তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন; ফলে কথা বলা, শোনা এবং দেখার শক্তি হারিয়ে ফেলেন।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষাজীবন : আট বছর বয়সে অ্যানি সুলিভান নামের এক গৃহশিক্ষিকা হেলেন কেলারের পড়াশোনার দায়িত্ব নেন। অ্যানি নিজেও একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তিনি প্রথমে আঙুল দিয়ে হেলেনের হাতে বিভিন্ন চিহ্ন এঁকে এবং বর্ণমালা কার্ড দিয়ে বর্ণমালা শেখান। তারপর ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশোনা করান। ১০ বছর বয়সে নরওয়েতে উদ্ভাবিত এক পদ্ধতি অনুসরণ করে কথা বলা শেখেন হেলেন। ১৯০০ সালে রেডক্লিফ কলেজে ভর্তি হন, যেখানে বিশ্ববিখ্যাত লেখক মার্ক টোয়েনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ১৯০৪ সালে হেলেন প্রথম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হিসেবে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ডিগ্রি অর্জনের আগেই তার আত্মজীবনী ‘দ্য স্টোরি অব মাই লাইফ’ প্রকাশিত হয়।

বিস্ময়কর-প্রতিভা-হেলেন-কেলার-2

সমাজসেবা : বাক, শ্রবণ ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও সহায়তা অর্জনে হেলেন প্রচেষ্টা চালান। তার জীবদ্দশায় তিনি আমেরিকার সব প্রেসিডেন্ট এবং আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল, মার্ক টোয়েন ও চার্লি চ্যাপলিনের মতো বিখ্যাত ব্যক্তিদের সহায়তা পান। ১৯১৫ সালে ‘হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের অনুরোধে হেলেন কেলার বিভিন্ন হাসপাতালে যুদ্ধাহত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সৈনিকদের দেখতে যেতেন এবং আশার বাণী শোনাতেন।

রাজনীতি : ১৯০৯ সালে হেলেন কেলার ‘American Socialist Party’-তে যোগদান করেন। ধনতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার অসমতা দূর করাই ছিল এই দলের আদর্শ। তার বই ‘Out of The Dark’-এ এই বিষয়ে একাধিক প্রবন্ধ লিখেছেন। ১৯১২ সালে তিনি ‘Industrial Workers of the World (IWW)’-এ যোগদান করেন। তিনি ছিলেন একজন Pacifist এবং প্রথম বিশ্বুদ্ধে আমেরিকার জড়িত থাকার বিরুদ্ধে ছিলেন।

সাহিত্যকর্ম : হেলেন কেলার রচিত বইয়ের সংখ্যা ১২টি। পাঠকপ্রিয় বইয়ের মধ্যে রয়েছে—‘দি স্টোরি অব মাই লাইফ’ (১৯০৩), ‘লেট আস হ্যাভ ফেইথ’, ‘দ্য ওয়ার্ল্ড আই লিভ ইন’ (১৯০৮), ‘ওপেন ডোর’ প্রভৃতি। এছাড়া তিনি বাক, শ্রবণ ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের কষ্টকর জীবনের ওপর একটি চলচ্চিত্র (Deliverance-1919) নির্মাণ করেন। চলচ্চিত্রে তার নিজের ভূমিকায় তিনি নিজেই অভিনয় করেছেন।

১৯৬৮ সালের ১ জুন হেলেন কেলার পরলোকগমন করেন। তার অবদান ও স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্য ১৯৭৭ সালে হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল গঠন করা হয়েছে। হেলেন কেলার প্রমাণ করেছেন, সাফল্যের পথে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো বাধা নয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন