দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে সম্ভাব্য পুশইন প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির পামাপাশি পুশইন প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে বিজিবি।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় কথিত অবৈধ নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সীমান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকা সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশে অবস্থানরত কথিত অবৈধ নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতির খবর প্রকাশের পর সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত অঞ্চলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে কথিত পুশইনের কিছু ঘটনার অভিযোগও সামনে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) ইতোমধ্যে দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্ট ও নদীপথ চিহ্নিত করে সেখানে দিবা ও রাত্রিকালীন টহল জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির উপস্থিতি আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত টহল মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির অংশ হিসেবে নাইট ভিশন গগলস, ড্রোন এবং বাইনোকুলারের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘবদ্ধ দালালচক্র ও অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
তবে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাই নয়, স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে বিজিবি। এ লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় ধারাবাহিক জনসচেতনতামূলক সভা, মাইকিং এবং সরাসরি গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। রাত্রিকালীন টহল দল বাঁশি ও টর্চ লাইটের মাধ্যমে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত জনসাধারণকে সীমান্ত অতিক্রম না করার জন্য সতর্ক করছে। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় ছোট ছোট সতর্কতামূলক দল গঠন করা হয়েছে, যাতে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হয়।
বিজিবি জানায, সীমান্ত সুরক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পেলে সম্ভাব্য পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, ‘অবৈধ পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় আপসহীন। সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সচেতন করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে জনসচেতনতামূলক সভায় অংশগ্রহণ করেছি। কোম্পানি ও বিওপি কমান্ডারগণও নিয়মিতভাবে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সদস্যরা সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।’
তিনি সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পুশইন, অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা যে কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পাওয়া মাত্রই বিজিবিকে অবহিত করতে হবে। সীমান্ত সুরক্ষায় জনগণ ও বিজিবির সমন্বিত উদ্যোগই সবচেয়ে বড় শক্তি। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং পুশইন প্রতিরোধে বাহিনীটি সর্বদা সজাগ ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

