এমপি মাহবুবুর রহমান বেলালের অভিযোগ

রংপুরে সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে প্রশাসন

রংপুরে সরকারি দলের সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে প্রশাসন
ছবি: আমার দেশ

ছাত্রদল-যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে চার ঘণ্টা সশস্ত্র মহড়া দিলেও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এর দ্বারা প্রমাণিত হয়, প্রশাসন আবারও এসব সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দিচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলাল।

বুধবার সন্ধ্যায় রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্বরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১১ দল আয়োজিত গণসমাবেশে এই মন্তব্য করেন তিনি। সমাবেশের আগে একটি গণমিছিল শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে গ্রান্ড মোড় দিয়ে আবারও শাপলায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

বিজ্ঞাপন

মহানগর জামায়াত আমির এ টি এম আজম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন রংপুর-১ আসনের এমপি রায়হান সিরাজী, এনসিপি জেলা আহবায়ক আল মামুন, মহানগর সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, এবি পার্টির মহানগর সভাপতি আবদুর রউফ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন মহানগর শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট কাওছার আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সাধারণ সম্পাদক মুফতি নেয়ামত উল্লাহ, এবি পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবার রহমান মাহবুব, ছাত্রশিবির জেলার সভাপতি হামিদুর রহমান, মহানগর শিবিরের সেক্রেটারি সাজ্জাদ হোসেন, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি রাকিব মুরাদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।

এসময় রায়হান সিরাজী এমপি বলেন, গতকাল চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসায় হঠাৎ করে, ‘ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি জাতির সামনে ভেসে উঠল’। আমরা খেয়াল করলাম, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন নির্বাচনে ছাত্রশিবির নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে তাদের হোয়াইট ওয়াশ করেছিল, সেদিন থেকেই তাদের মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন জুলাই প্রদর্শনী চলছে, আমার প্রিয় ছাত্রদলের ভাইয়েরা গিয়ে আপত্তি জানালেন যে এইখানে প্রদর্শনী চলবে না। এখানে সাঈদী, নিজামী, মুজাহিদের ছবি আছে, এটা করা যাবে না।

আমি বলতে চাই, এই সাঈদী, নিজামী, মুজাহিদদের খালেদা জিয়া পাশে নিয়ে বসেছিলেন। তাদের বিচার যদি ন্যায় হয়, তাহলে খালেদা জিয়ার এতিমের টাকা চুরি কি না জায়েজ? তারেক জিয়ার সাজা কি নাজায়েজ ছিল? আমরা সেটি বলি না, আমরা বলি ফ্যাসিস্ট আমলের সব বিচার ছিল বিচারর নামে জুলুম। আপনারা ভুল করেছেন, সেই দিন ছাত্র-জনতার নারায়ে তাকবির স্লোগানে আপনারা দিগ্বিদিক ছুটে পালিয়েছিলেন।

পরদিন আপনারা কী করলেন? একদল টোকাইয়ের সম্মেলন করলেন; তাদের হাতে আমরা কি দেখলাম? অস্ত্র দেখলাম, রামদা দেখলাম। তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি রংপুরে জনগণ আপনাদের লাল কার্ড দেখিয়েছে।

সাঈদী-নিজামীর ছবিতে জুতা নিক্ষেপের ব্যাপারে এমপি বলেন, গতকাল পরশু যারা আল্লামা সাঈদী, নিজামীর ব্যানারে জুতা দিয়ে লাত্থি মেরেছেন, খেয়াল রাখবেন, লক্ষণ ভালো না। এই চিত্র শাহাবাগে হয়েছিল, তারপরে ফড়িংয়ের মতো হ্যালিকপ্টারে পলায়ন। সেই চিত্র আবার দেখছি! আল্লামা সাঈদীকে যারা রাজাকার বলেন, সাঈদীর ভাষায় তাদের বলতে চাই, তারা পিতৃ পরিচয়হীন জারোজ সন্তান। আলেম-ওলামাদের নিয়ে তামাশা করবেন না, জাতির কলিজার টুকরা সাঈদীকে নিয়ে তামাশা করবেন না।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন