কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের রমনা বন্দরঘাটে আকস্মিক ঝড় ও অস্বাভাবিক ঢেউয়ের আঘাতে চারটি নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকটি নৌকা ও একটি স্পিডবোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রমনাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ করে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর হালকা বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া শুরু হয়। বাতাসের গতি তুলনামূলক কম থাকলেও ব্রহ্মপুত্র নদে অস্বাভাবিকভাবে বড় বড় ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এতে ঘাটে বাঁধা থাকা নৌকাগুলো তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে ব্লক পিচিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ সময় রৌমারী ও কোদালকাটি রুটের দুটি এবং চিলমারীর দুটি নৌকাসহ মোট চারটি নৌকার তলা ফেটে ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া নৌকাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া নৌকায় থাকা প্রায় ৫০ বস্তা ইউরিয়া সার ও যাত্রীদের বিভিন্ন মালামাল নদীতে তলিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
কোদালকাটি থেকে আসা একটি নৌকার মালিক আব্দুর রশিদ জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে তার নৌকা ঘাট ছাড়ার কথা ছিল। এর আগেই আকস্মিকভাবে ঝড়ো হাওয়া শুরু হয় এবং নদীতে বড় বড় ঢেউ উঠতে থাকে। ঢেউয়ের আঘাতে ঘাটে বাঁধা নৌকার তলা ফেটে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকায় থাকা সার ও যাত্রীদের ব্যাগসহ বিভিন্ন মালামাল ভেসে যায় বলে তিনি জানান।
চিলমারী রমনাঘাটের ইজারাদার আনোয়ার হোসেন বলেন, “হঠাৎ সৃষ্ট ঝড়ে ঘাটে বাঁধা চারটি নৌকা ডুবে গেছে। প্রবল ঢেউয়ের কারণে নৌকাগুলো ব্লক পিচিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তলা ফেটে যায়। এছাড়া একটি স্পিডবোটসহ আরও কয়েকটি নৌকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ আকস্মিক। নদীর এমন রূপ আগে কখনো দেখিনি। বাতাসের তীব্রতা খুব বেশি ছিল না, কিন্তু ঢেউ ছিল অস্বাভাবিক বড়। বিষয়টি আমাদের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে।”
তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত নৌকার মালিকরা তাদের ডুবে যাওয়া নৌকা ও মালামাল উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

