নিয়মনীতি উপেক্ষা করে পাবর্তীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার গাছ বিক্রি করে দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম।
বুধবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিল্ডিং এর কাজ হবে তাই গাছ কাটা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে গাছ কাটা হয়েছে ।
জানা যায়, দিনাজপুর জেলার পাবর্তীপুর উপজেলার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত পাবর্তীপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা। ১৯৯৪ সালে মাদ্রাসায় তৎকালীন গভর্নিংবডির সদস্য, অধ্যক্ষ এবং ছাত্র/ছাত্রীরা মিলে মাদ্রাসা মাঠের চতুর্দিকে শতাধিক মেহগনি গাছের চারা রোপণ করা হয়। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এই গাছগুলো লালন পালন করা হয়।
মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুনের নিদের্শ মোতাবেক মাদ্রাসার দেড় লক্ষাধিক টাকার গাছ বিক্রি করে দেয়। বন বিভাগের মেপকেচ, গাছের মার্কিং, মূল্য নির্ধারণ অনুমোদন কোনোটাই নেয়া হয়নি। এমনকি সরকারি গাছ টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রির নিয়ম নীতি থাকলেও তা মানা হয়নি।
ব্যাপারে এলাকার অভিভাবক মাহমুদ আলম হবিবার রহমান, মুকুল সরকার, রোস্তম আলী, মাহবুর রহমান সংগ্রাম, মকছেদ আলী, মজির উদ্দিনসহ আরো অনেকে বলেন, মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে এলাকাবাসীর কাউকে না জানিয়ে মাদ্রাসার বড় বড় পাঁচটি মেহগনি গাছ গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন। আমরা প্রতিবাদ করলে তিনি বলেন ইউএনও স্যারের নিদের্শ মোতাবেক গাছ বিক্রি করেছি।
এব্যাপারে মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি আহমেদুর রহমান মুকুল বলেন, গাছ বিক্রির কথা শুনেছি। আমিতো এখন আর মাদ্রাসার সভাপতি নাই তাই আমাকে কোনো কিছু বলার প্রয়োজন মনে করে নাই।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিল্ডিং এর কাজ হবে তাই গাছ কাটা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে গাছ কাটা হয়েছে ।
পাবর্তীপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, বন বিভাগের অনুমতি না নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান বনজ গাছ কাটতে পারবে না । এমনকি উপজেলা নির্বাহী অফিসারও পারবেন না। তাকেও অনুমতি নিতে হবে । অভিযোগ পেলে বন আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতেমা খাতুন আমার দেশকে বলেন, মাদরাসার গাছ কাটা হয়েছে চেয়ার টেবিল বানানোর জন্য। রেজুলেশন করা হয়েছে। কারও অনুমতি প্রয়োজন দরকার নাই।
এমএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

