জলঢাকায় নদীতে অসাধু জেলেদের ‘আইপিএস’, বিলুপ্তির পথে দেশি মাছ

উপজেলা প্রতিনিধি, জলঢাকা (নীলফামারী)

জলঢাকায় নদীতে অসাধু জেলেদের ‘আইপিএস’, বিলুপ্তির পথে দেশি মাছ

নীলফামারীর জলঢাকায় নদীতে অসাধু জেলেদের ‘আইপিএস’ ব্যবহারের ফলে বিলুপ্তির পথে দেশি মাছ। বিশেষ করে তিস্তা, বুড়ি তিস্তা ও চাড়ালকাটা নদীতে এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধরা হচ্ছে মাছ।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, গভীর রাতে ছোট ছোট নৌকায় আইপিএস বেঁধে নদীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত এই বিদ্যুতে প্রায় ৫ থেকে ৭ মিটার এলাকার পানি বিদ্যুতায়িত হয়ে যায়। এর ফলে ওই এলাকায় থাকা ছোট-বড় সব রকমের মাছ এমনকি অন্যান্য পোকামাকড় থাকলেও সেগুলো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হার্ট আ্যাটাক করে এবং মারা যায়। সাধারণত এলাকার লোকজন ঘুমিয়ে পড়ার পরে নৌকাগুলো নদীতে নামানো হয়। সারা রাত মাছ ধরে ভোরে জেলেরা ফিরে যান।

এভাবে দেশীয় প্রজাতির মাছ পোনাসহ মেরে ফেলা হচ্ছে। এজন্য দেশের বাজারগুলোতে দেশি মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও নদীতে আর তেমন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।

ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের সাত কাপাটি এলাকার বাসিন্দা সহিদুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি একটু বাড়লেই এই চক্র তৎপর হয়ে ওঠে। প্রায় প্রতি রাতেই তারা তিস্তা ও বুড়ি তিস্তা নদীতে আইপিএস দিয়ে মাছ ধরে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দুয়েক বছরের মধ্যে নদীতে আর কোনো দেশি মাছ পাওয়া যাবে না। মা ও পোনা মাছসহ সবধরনের মাছ নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হচ্ছে।

গোলমুণ্ডা ইউনিয়নের বুড়ি তিস্তা নদীর চরের বাসিন্দা মন্টু মিয়া বলেন, দু-একদিন পরপর আইপিএস দিয়ে মাছ ধরার লোকজন আমার বাড়ির পাশ দিয়ে যাতায়াত করে। তারা সংঘবদ্ধ। দু-চারজন মিলে তাদের প্রতিহত করা সম্ভব নয়। শুধু তিস্তা কিংবা বুড়ি তিস্তা নদীতেই নয়, ধুম নদের ছোট নদেও এভাবে মাছ মেরে ফেলা হচ্ছে।

জলঢাকা উপজেলা মৎ্যে কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ বিবেচনাধীন রয়েছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন