ভারতীয় বাঘ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে হাতীবান্ধা সীমান্তবাসীর

ভারতীয় বাঘ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটে হাতীবান্ধা সীমান্তবাসীর
ছবি: সংগৃহীত।

‎ভারতীয় বাঘ আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তের গ্রামবাসী। বাঘের আক্রমণে নারীসহ আহত হয়েছেন তিনজন। বাঘটিকে খুঁজে বের করতে টর্চলাইট হাতে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয়রা। বিজিবির পক্ষ থেকে চলছে মাইকিং; ড্রোন দিয়েও করা হচ্ছে তল্লাশি। বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধারে কাজ করছে বিজিবি ও বন বিভাগ। এ ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ।

বিজ্ঞাপন

‎হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের উত্তর আমঝোল সীমান্ত এলাকায় বাঘের আক্রমণে আহত হয়েছেন তিনজন। রোববার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে গিয়ে বাঘের আক্রমণের শিকার হন শরিফা বেগম। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে আরো দুজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে জানা গেছে। অপরজন হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

‎খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফাঁকা গুলি ছোড়ে ১৫ বিজিবির টহল দল। পরে বাঘটি পাশের জঙ্গলে চলে যায়। এর অবস্থান শনাক্ত করতে এলাকায় মাইকিংয়ের পাশাপাশি ড্রোন দিয়েও তল্লাশি চালানো হয়। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঘটিকে উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করেন।

‎ড্রোন ফুটেজ থেকে পাওয়া তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হবে। বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও এলাকাবাসীর আতঙ্ক কমাতে কাজ করার কথা জানিয়েছেন ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম।

‎বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করে নিরাপদে উদ্ধার না করা পর্যন্ত সীমান্তজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। আতঙ্ক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অপেক্ষায় স্থানীয়রা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাঘটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

রমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শরীফা বেগমের অভিভাবক মমিনা বেগম বলেন, শরীফা তার ছাগল আনতে যান। পরে বাদামবাড়িতে গিয়ে দেখা যায় ধানক্ষেতে কিছু একটা নড়ছে। কাছে গিয়ে দেখা যায় একটি বাঘ ছাগলটিকে মেরে ফেলে রেখেছে। পরে পাশেই বাঁশ কাটতে যাওয়া তার ভাসুরসহ দুজন ছাগলের কাছে গেলে বাঘটি হঠাৎ তাদের উপর আক্রমণ করে।

বাঘটি সীমান্তবর্তী জঙ্গলে বা কৃষিজমিতে লুকিয়ে রয়েছে। বন বিভাগ, পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

বাঘের আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ায় সীমান্ত গ্রামের অধিবাসীরা অনেকেই মাঠে কাজ করা বা নদীতে নামতে দ্বিধায় পড়ছেন।

বকুল মিয়া নামে একজন বলেন, বাঘ আতঙ্কে সীমান্তের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সীমান্তের জঙ্গল এলাকায় চাষাবাদ ও ছোট খাল-নদীগুলোতে মাছ ধরা এবং পারাপারে তারা এখন ভয় পাচ্ছেন। যত দ্রুত সম্ভব বাঘটিকে উদ্ধারের দাবি জানান তিনি ।

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মামুন রহমান জানান, বাঘের আক্রমণের শিকার হয়ে আহতরা হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন