সীলমোহরকৃত গুদাম হতে নিষিদ্ধ ঘোষিত কীটনাশক চুরি

সৈয়দপুরে থানার ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল

 সৈয়দপুরে থানার ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল
ছবি: আমার দেশ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সীলমোহরকৃত গুদাম হতে নিষিদ্ধ ঘোষিত কীটনাশক চুরির ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অপরাধে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল ইসলাম রেজাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গোপনে নীলফামারীর স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক বরাবরে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে বিচারিক তদন্ত কমিটি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নীলফামারীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হক বসুনিয়া এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্তরা হলেন, সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল ইসলাম রেজা, মনোয়ার, কৃষিবিদ মোসলেহ উদ্দিন, তামজিদ হোসেন, সৈয়দপুর থানার উপ-পরিদর্শক ঋষিকেশ, সৈয়দপুর বিসিক শিল্প কর্মকর্তা মশিউর রহমান ও সাঈদ আহমেদ সানি।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় ঘটনাটি টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। বুধবার আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য থাকলে তারা সময়ের আবেদন দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে যে, ৯৩ হাজার ৫০০ প্যাকেট নিষিদ্ধ ঘোষিত ব্রিফার ৫জি (কাফুরান জাতীয় দানাদার কীটনাশক) জব্দ করে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে সৈয়দপুর বিসিক শিল্প নগরীর সাঈদ আহমেদ সানির গোডাউন ঘরে রাখা হয়। আর এসব মালামালের দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয় বিসিক কর্মকর্তা মশিউর রহমানকে। সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেনের গোডাউন হতে ২০২৪ সালে ওই নিষিদ্ধ ঘোষিত প্যাকেটজাতকৃত কীটনাশক জব্দ করা হয়। এ ঘটনার দায়ের করা মামলায় ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন জেল হাজতে ছিলেন।

জেল থেকে বের হয়ে তিনি পরবর্তীকালে জব্দকৃত মালামাল রাতের আঁধারে বিক্রি করে দেয়। ঘটনা ফাঁস হলে জব্দকৃত চুরি যাওয়া মালামাল বিষয়ে নীলফামারীর স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর আদালতে মামলা করা হয়। মামলা নম্বর ৪/২০২৫। এ ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় নীলফামারী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হক বসুনিয়াকে।

তিনি দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে ও গোপনে তদন্ত করে উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিদের দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ঘটনায় প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় তা অত্যন্ত গোপন রাখা হয়। যাতে মামলার বিষয়ে কোনো ক্ষতি না হয়। অভিযুক্তদের আদালতে হাজির হবার নির্দেশ থাকলেও তারা আদালতে হাজির হননি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল ইসলাম রেজা জানান, আমি সৈয়দপুর থানায় যোগদানের আগে ওইসব মালামাল জব্দ করা হয়। তারপরেও আমাকে জড়িয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই। প্রয়োজনে আরো তদন্ত হবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন