আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

উত্তরাঞ্চলে ট্রেনযাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই

মিজানুর রহমান রাঙ্গা, সাঘাটা (গাইবান্ধা)

উত্তরাঞ্চলে ট্রেনযাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই

উত্তরাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলো দিন দিন অবহেলার শিকার হচ্ছে। এতে বেড়েছে যাত্রীদের ভোগান্তি। চলাচলের শিডিউল মেনে না চলা, ভেঙেচুরে যাওয়া জরাজীর্ণ কম্পার্টমেন্টে যাত্রী পরিবহন ও দীর্ঘদিন থেকে বেশ কিছু রেলস্টেশন কার্যক্রম বন্ধ করে রাখায় ক্রসিং জটিলতাসহ নানা কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ট্রেনের যাত্রীরা। সড়কপথে ভালো যোগাযোগের অভাবে যেসব এলাকার লোকজনের ট্রেনই একমাত্র ভরসা, সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন সেসব এলাকার যাত্রীরা।

গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে ওঠা বগুড়ার সান্তাহারগামী করতোয়া আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী মোস্তাফিজুর রহমান সুজন জানান, এ ট্রেনের কম্পার্টমেন্টের ভেতরে আসনসহ সব জায়গায় ধুলোবালি আর ময়লায় ভরে থাকে। আসনে বসলেই কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। যেভাবে ময়লা থাকে, দেখে মনে হবে পশুপাখির ঘর। একই কথা জানিয়ে সাঘাটার বোনারপাড়া রেলস্টেশনে ওঠা যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, রাত ৮টা ২০ মিনিটের এ ট্রেনটি প্রতিদিন ১০টায় রেলস্টেশনে আসে। এতে করে ভোগান্তি লেগেই থাকে।

বিজ্ঞাপন

সান্তাহার-পঞ্চগড় রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনেরও একই অবস্থা। বগুড়া, গাইবান্ধা, সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া, রংপুর, দিনাজপুর এলাকার শতশত যাত্রী ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা কাজে এ ট্রেনে যাতায়াত করে থাকে। এ ট্রেনটিও প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে চলাচল করে। ট্রেনটি আন্তঃনগর হলেও পরিবেশ লোকাল ট্রেনের মতো। ভাঙা দরজা-জানালা মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই। টয়লেটে পানি থাকে না। টয়লেটের দুর্গন্ধে যাত্রীরা কষ্টে থাকেন। এছাড়া মাঝেমধ্যেই ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে থাকে। ট্রেনটিতে নিয়মিত বগুড়ায় যাতায়াতকারী গাইবান্ধার বোনারপাড়ার যাত্রী রানা সরকার ও বুলু মিয়া বলেন, আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কেটেও লোকাল ট্রেনের সুবিধা পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। পুরো ট্রেনে অন্তত শতাধিক হকারের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের।

সান্তাহার-বোনারপাড়া-লালমনিরহাট রুটে অন্তত ১৫টি রেলস্টেশন ক্লোজ ডাউন করে রাখা হয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। যে কারণে স্টেশনগুলোতে ট্রেনের লেভেলক্রসিং ব্যবস্থা নেই। ঢাকাগামী আন্তঃনগর লালমনি, বুড়িমারী, করতোয়া ও রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন যেকোনো বড় স্টেশনে থামলে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য কোনো লোকাল ট্রেনের জন্য দীর্ঘ সময় দেরি করতে হয়। বন্ধ থাকা রেলস্টেশনগুলোর কারণে লেভেলক্রসিংয়ের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো। যে কারণে প্রতিদিন ট্রেনগুলো দেরির কবলে পড়ে। এতে যাত্রী ভোগান্তি বেড়ে যায়।

এ রুটে চলাচল করা লোকাল ট্রেনগুলোর ভোগান্তি যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। বোনারপাড়া থেকে সান্তাহারগামী কলেজ ট্রেন নামক ট্রেনটিতে সন্ধ্যার পর লাইটিং ব্যবস্থা থাকে না। টয়লেট ভেঙে গেছে। ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ যাত্রী নিয়ে প্রতিদিন ট্রেনটি চলাচল করলেও কম্পার্টমেন্ট বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। টিকিটবিহীন যাত্রীরা অবাধে চলাচল করলেও কোনো টিকিট পরিদর্শক থাকে না। ভেলুরপাড়া রেলস্টেশন থেকে ওঠা কলেজ ট্রেনের বগুড়াগামী যাত্রী রেজাউল করিম জানান, দীর্ঘদিন থেকেই ট্রেনটি অবহেলিত। এত যাত্রী কষ্ট করে যাতায়াত করলেও ভোগান্তি লাঘবে কোনো ব্যবস্থা নেই। ট্রেনটিতে পকেটমারদের দৌরাত্ম্য থাকায় যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

এসব ব্যাপারে কথা হলে বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের মাস্টার প্রদীপ চন্দ্র বলেন, এ বিষয়গুলো আসলে ওপরের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এসব বিষয়ে কথা হলে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক তছলিম আহম্মেদ খান বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। তবে পরিস্থিতি বুঝে সব সমস্যা সমাধান করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন