মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, কাব্যসহ বিভিন্ন বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ‘বই পড়ি, মন গড়ি’ স্লোগান সামনে রেখে আয়োজিত শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসব-২০২৬ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের কাছে সরাসরি গিয়ে বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরছেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার দিনব্যাপী উৎসবের প্রথম ধাপ ‘মুকুল পর্ব’ উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজনগর গাউছিয়া সুন্নী ফাজিল মাদরাসা, শ্রীমঙ্গল আনোয়ারুল উলুম ফাজিল মাদরাসা, সেন্ট মার্থাস হাই স্কুল এবং ভূনবীর দশরথ স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সমাবেশে মো. জিয়াউর রহমান বলেন, বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও মননশীল বই পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেকে, সমাজকে এবং বিশ্বকে আরও ভালোভাবে জানতে পারবে। উপজেলা প্রশাসনের লক্ষ্য হলো বই পড়াকে আনন্দময় অভ্যাসে পরিণত করা।
এ সময় শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবের সমন্বয়ক ও শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ দাশ এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল উপস্থিত ছিলেন।
ভূনবীর দশরথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ঝলক চক্রবর্তী বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, একজন সৃজনশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে বই পড়ার বিকল্প নেই। উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সিরাজনগর গাউছিয়া সুন্নী ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শিব্বির আহমেদ বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য ও ইতিহাসভিত্তিক বই পড়লে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি ও মূল্যবোধ সমৃদ্ধ হবে। বইপড়া উৎসবের এই আয়োজন সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয়।
গত ২১ জুলাই শুরু হওয়া শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসব-২০২৬-এর প্রথম ধাপ ‘মুকুল পর্বে’ উপজেলার মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী শ্রেণিভিত্তিক নির্ধারিত ১৪টি বই পড়ছে। আগামী ১৭ আগস্ট প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব বইয়ের ওপর শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি শ্রেণি থেকে সেরা ১০ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ধাপ ‘ফুল পর্বে’ অংশ নেবে। সেখান থেকে প্রতিটি শ্রেণির সেরা তিনজন উপজেলা পর্যায়ের চূড়ান্ত ‘ফল পর্বে’ উত্তীর্ণ হবে। চূড়ান্ত পর্বে নতুন বইয়ের ওপর পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিটি শ্রেণির সেরা ১০ জন নির্বাচিত হবে।
এবারের উৎসবে উন্মুক্ত বিভাগও যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরের যেকোনো বয়সী ব্যক্তি নিবন্ধনের মাধ্যমে বইপড়া উৎসবে অংশ নিতে পারবেন।
উপজেলা প্রশাসন, শ্রীমঙ্গলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে সমন্বয় সহযোগী হিসেবে রয়েছে শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব এবং পাঠ সহযোগী হিসেবে রয়েছে উত্তরণ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

