সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পার্লামেন্টে কোনো আলোচনা ছাড়াই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সব খাতেই ব্যয় বাড়বে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনে।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের বাদাঘাট সোনাতলা গ্রামে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু ফাহিমার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফাহিমা হত্যা মামলার ২৮ দিন অতিবাহিত হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, “একটি অবুঝ শিশুর জীবন ও সম্ভ্রম কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ফাহিমা হত্যা মামলার বিচার যদি দীর্ঘসূত্রিতার দিকে যায়, তাহলে আমরা ধরে নেব এই বিচার আর হবে না। রাজধানীর রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের মতো ফাহিমা হত্যার বিচারও ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে—সরকারকে এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ক্ষমতায় থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে মূল্যায়ন জানতে চাইলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আগামী ৫ তারিখ থেকে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। সেখানে তিনি বিস্তারিত মূল্যায়ন তুলে ধরবেন। তবে সংক্ষেপে তিনি বলেন, “দেশ ভালো নেই।”
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত মাসে প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। চলতি মাসেও লিটারপ্রতি ৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংসদে কোনো আলোচনা ছাড়াই এভাবে জ্বালানির দাম বাড়ানো জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
তিনি বলেন, “জ্বালানি খাত নিয়ে একটি কমিটি রয়েছে, সেখানে পর্যন্ত এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়নি। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়বে। এতে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটি জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত।”
হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ দায় কেবল একটি পক্ষের নয়, বরং সবার। তিনি বলেন, “শুধু অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করলেই হবে না। জনগণ জানতে চায়, হামের টিকা কেন সময়মতো কেনা হয়নি। হামের প্রাদুর্ভাব তো হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। আগে থেকেই এর লক্ষণ ছিল। তাহলে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন? এ বিষয়ে আমি সংসদে কথা বলব।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আজ মাসুম শিশুদের ইজ্জতও রক্ষা করতে পারছি না, অথচ বড় বড় কথা বলছি। কেউ কেউ হুমকির সুরে কথা বলছে। সমাজে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।”
ফাহিমার পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আইনগতসহ সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে পরিবারটির পাশে থাকবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকেও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এখানকার পুলিশ যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে না পারে, তাহলে তাদের এখানে থাকার প্রয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর রামিসা হত্যার বিচার এক মাসের মধ্যে শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন। আমি চাই, এখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও ফাহিমা হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ঘোষণা দেবেন।”
এ সময় শিশু ফাহিমার বাবাকে পাশে নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমার মুখে আমার হাসি, বুকে আমার কান্না। ফাহিমার ছবি দেখলে চোখের পানি ধরে রাখা সম্ভব হয় না।”
এসময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিলেট অঞ্চলের পরিচালক অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

