সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতি বা সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংস্থাটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি বলেন, সিউকের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য কার্যালয়ে অভিযোগ বাক্স রাখা হবে, যার চাবি তার কাছে থাকবে।
রোববার দুপুরে সিউকের অস্থায়ী কার্যালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সিউকের বর্তমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সিলেট নগরীর পরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।
লোদী বলেন, সিউকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতি করতে পারবেন না এবং গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করতে পারবেন না। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নবগঠিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হিসেবে সিউক মাত্র কাজ শুরু করেছে। সিলেটকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সুপরিকল্পিত নগরী গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
সিউক চেয়ারম্যান জানান, এখন থেকে সিলেট নগর ও এর আওতাধীন এলাকায় বাসাবাড়ি নির্মাণের ছাড়পত্র সিউক থেকে নিতে হবে। নগরীর পরিকল্পিত উন্নয়ন ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং প্রবাসীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ‘গ্রিন ইকো হাউজিং প্রজেক্ট’ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, নগরীর খেলার মাঠ, বনায়ন, উন্মুক্ত স্থান ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়গুলোও সিউকের উন্নয়ন পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার পাবে। শিক্ষা খাতের উন্নয়নে ‘সিউক স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
সিলেটের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সময়োপযোগী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সাংবাদিকদের সুচিন্তিত মতামত ও গঠনমূলক পরামর্শ সিউকের কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সিউকের স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের বিষয়ে তিনি জানান, দক্ষিণ সুরমার আলমপুর হবনিন্দি এলাকায় স্থায়ী কার্যালয় স্থাপনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটির নিজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য আয়বর্ধক প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
সভায় সাংবাদিক নেতারা সিলেটের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সিউকের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোতে সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারা।
সভাটি সঞ্চালনা করেন সিউকের নির্বাহী পরিচালক মো. সাদি উর রহিম জাদিদ। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সিলেটের উন্নয়ন, নগর পরিকল্পনা ও সিউকের কার্যক্রম নিয়ে তাঁদের মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

