প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে মৌলভীবাজারের কুশিয়ারা, মনু, ধলাই নদীতে ভাঙন দেখা দেয়। এ বছরও বর্ষা শুরু হওয়ার আগ থেকেই নদী ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন রাজনগর, কুলাউড়া, কমলগঞ্জ ও সদর উপজেলার বাসিন্দারা।
অনেক স্থানে নদী ভাঙতে ভাঙতে এগিয়ে এসেছে অনেকেরই বসত ঘরের খুব কাছে। যে কোনো সময় এসকল ঘরবাড়ী বিলীন হবে নদীতে। উৎকণ্ঠিত বাসিন্দারা ভাঙনের দৃশ্য দেখে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে কমলঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদী ও কুলাউড়া, রাজনগর, মেলৗভীবাজার সদর উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত মনু নদীর ভাঙনে অনেকের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে অনেকেই ভূমি হারাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকরী পদক্ষেপের অভাবে সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ধলাই নদীতে ঝুঁকি পূর্ণ ১০ টি স্থান মেরামত করা হয়েছে ৫টি স্থান ঝুঁকি পূর্ণ রয়েছে এ ছাড়া মনু নদীতে ৪টি, কুশিয়ারায় ২টি স্থান ঝুঁকি পূর্ণ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ভারতের পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি বছরই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে জেলায় বন্যা দেখা দেয়। এতে জেলায় কয়েক শতশত কোটি টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়।
রাজনগর উপজেলার মনু নদী পাড়ের কোনা গাও এলাকার বাসিন্দা আজাদ মিয়া বলেন, প্রতি বছর বন্যার মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আমাদের এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দেয়। এতে করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে আমাদের ঘর বাড়ি ও ফসলি জমির ব্যপক ক্ষতি হয়।
কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর পাড়ের বাসিন্দা মিলন বেগম বলেন, জেলায় প্রথমই ধলাই নদীতে ভাঙন দেখা দেয় এতে কয়ে পুরো বর্ষা আমাদের এলাকায় বন্যা থাকে। বন্যার কারণে প্রতি বছরই ক্ষতি গ্রস্থ হই।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, চলতি বছর ধলাই নদীর ১০টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান মেরামত করেছি। এছাড়া তিন নদী মিলিয়ে কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। তবে বন্যায় যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

