আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সিলেট-২

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নেই তৎপরতা, আতঙ্কে মানুষ

সাইফুর এম রেফুল, ওসমানীনগর (সিলেট)

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নেই তৎপরতা, আতঙ্কে মানুষ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমনে জোরালো অভিযান পরিচালনা করছে, তখন সিলেট-২ (ওসমানীনগর-বিশ্বনাথ) আসনে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম লক্ষ করা যাচ্ছে না। এতে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় বিরোধী দল দমনের নামে দেশের প্রতিটি উপজেলায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও আধুনিক অস্ত্র প্রবেশ করে। তবে সরকার পরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সিলেট-২ আসন এলাকার সেসব অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনী বা থান-পুলিশের কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সিলেটের বিভিন্ন স্পটে প্রকাশ্যে গুলি, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সেসব ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। অথচ এক বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। অনেক অভিযুক্ত সন্ত্রাসী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় এলাকায় হতাশা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

সিলেট-২ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর নির্বাচনি এলাকা। সম্প্রতি ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর মাইজগাঁও গ্রামে প্রবাসী আছান খাঁ ও শফিকুল ইসলামের অনুসারীদের মধ্যে গোষ্ঠীগত বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার ও গুলির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষ থানা ও আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করলেও আজ পর্যন্ত কোনো অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার হয়নি, উদ্ধার হয়নি কোনো অবৈধ অস্ত্র।

স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ক্যাডার ও গোষ্ঠীর হাতে এখনো বিপুলসংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এমনকি অস্ত্রের প্রবাহ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। অথচ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ বা সমন্বিত অভিযান পরিচালিত হয়নি। ফলে প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারে নামলে স্থানীয় বাজার, গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে অস্ত্র বহনের ঝুঁকি বাড়বে, যা নির্বাচনি সহিংসতার আশঙ্কা জাগাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রকাশ্যে গুলি চালানোর শঙ্কা বাড়ছে। এতে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কে রয়েছে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সিলেট-২ আসনে সে অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের কোনো প্রতিফলন এখনো দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং চলমান তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

নির্বাচন বিশ্লেষকেরা মনে করেন, পুলিশের আশ্বাসের পাশাপাশি দ্রুত কার্যকর অভিযান ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের মাধ্যমে নির্বাচনের আগে এলাকায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন