হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে মামলাটি করেন জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের। মামলায় রিংগনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে হামলার প্রতিবাদে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে মৌলভীবাজার থেকে রওনা দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, ডা. মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
পথে শ্রীমঙ্গলের ব্যারিকেড অতিক্রম করলেও বাহুবল উপজেলার মুছাই এলাকায় তারা আবারও পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পরে রশিদপুর গ্যাসফিল্ড মোড় পেরিয়ে কামাইছড়া রাবার বাগান এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ, র্যাব ও ডিবির যৌথ ব্যারিকেডে তাদের গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়।
এ সময় পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আমতলী সেতু এলাকায় একটি বালুবাহী ট্রাক ও একটি যাত্রীবাহী বাস আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। এর প্রতিবাদে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সড়কেই অবস্থান নেন। ফলে বিকেল ৫টা থেকে ওই সড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ থাকে এবং ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ যাত্রীরা।
দীর্ঘ আলোচনার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এনসিপির নেতাদের হবিগঞ্জে প্রবেশ না করার বিষয়ে রাজি করান। রাত পৌনে ৮টার দিকে নাহিদ ইসলাম, নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ ও ডা. মাহমুদা মিতুকে নিয়ে পুলিশ সুপার বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে যান। রাত ৯টার পরে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, এনসিপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলমসহ দলের একাধিক নেতাকর্মীকে আহত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, হামলায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিনি বলেন, আজ রাতের মধ্যেই আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
ব্রিফিং শেষে পুলিশের নিরাপত্তায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা বাহুবলের কামাইছড়া ত্যাগ করে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশে রওনা দেন।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

