সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার রাত ৮টায় মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী প্রিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, গত ১৫ এপ্রিল থেকে পর্যাপ্ত ওয়ার্ড সুবিধা ও দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতাল চালুর দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা এখান থেকে স্পষ্ট কোনো সঠিক সমাধান পাইনি। সমাধান না পাওয়ায় ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করি। এ কর্মসূচি ডাকার আগে এলাকার সাধারণ মানুষ, সুশীল সমাজ, বাস মালিক সমিতি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবহিত করি। আমরা সড়ক অবরোধ করতে গেলে হঠাৎ করে সুনামগঞ্জ ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি ঠিম এসে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করেন। পরে ক্যাম্পাসে ঢুকে ছেলে-মেয়েদের ওপর লাঠিপেটা করে। এতে ৫৩ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এর মাঝে ১০ জনের অবস্থা খুবই গুরুতর। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য তীব্র নিন্দা জানাই।

আমাদের দাবি হচ্ছে— এ হামলার জন্য জেলা প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্পষ্ট বিবৃতি দিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এবং ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য সেনাবাহিনীকে ক্ষমা চাইতে হবে। এছাড়া যারা হামলার সাথে জড়িত তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাঈদুল বলেন, একটি মেডিকেল কলেজের প্রাণ হলো হাসপাতাল। হাসপাতাল চালু হলে শুধু আমাদের উপকার হবে না, গোটা সুনামগঞ্জবাসীর উপকার হবে। আমরা শিক্ষক সমাজ, আইনজীবীদের কাছে গিয়েছি। তারা আমাদের বলেছেন, এটি শুধু তোমাদের দাবি না, আমাদেরও দাবি। সরকারি সব সংস্থাকে আমরা জানিয়ে আন্দোলনে নেমেছি। সকালে আন্দোলনে নামতে গেলে সেনাবাহিনী এসে আমাদের বাধা দেয়। আমরা সেনাবাহিনীকে বলেছি, আমাদের ৫ মিনিট সময় দিন। আমরা মিডিয়ার সাথে কথা বলব। তারা কথা রাখলেন না। ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের মাথায় তারা আমাদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে। আমাদের হ্যান্ড মাইক, শিক্ষার্থীদের ২টি মোবাইল ভাঙচুর করেন। আমরা ২০০ জন স্টুডেন্ট বলেই দুর্বল মনে করে কি হামলা করেছেন? আমরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধির জন্য রাস্তায় দাঁড়াইনি। আমরা ভবিষ্যতে বড় ডাক্তার হতে চাই। আমরা শিক্ষা অর্জন করতে চাই। জনগণ আমাদের পাশে আছে। আমরা পড়তে চাই। এখানে ওয়ার্ড ক্লাস নেই, কি শিখব আমরা।

চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হারুন রশীদ বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এটি জাতির সাথে প্রতারণা। আমরা পড়তে এসে মার খাচ্ছি। শুধু রাস্তায় না, ক্যাম্পাসে ঢুকে আমাদের বোনদের ওপর হাত তুলেছে। ক্যাম্পাসে ঢুকে হামলা করার অধিকার তাদের কে দিল? ৫ আগস্টের পর বৈষম্যহীন একটি সরকার পেয়েছি। আমাদের বোন ও ভাইদের লাল রক্ত দেখে মনে হয় বৈষম্য এখনো যায়নি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন চলবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন