একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সর্ববৃহৎ বাজার যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া মোট পোশাকের প্রায় ২০ শতাংশ দেশটিতে রপ্তানি করা হয়। তবে উচ্চ শুল্কারোপ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে তৈরি পোশাকের অভ্যন্তরীণ চাহিদায় বড় ধরনের সংকোচন দেখা দেওয়ায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মার্কিন পোশাক আমদানি সার্বিকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
তবে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে চীন ও ভারতীয় পোশাক আমদানিতে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের বস্ত্র ও পোশাক দপ্তর (ওটেক্সা) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) মার্কিন পোশাক আমদানি কমে ৩৫ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ কম। পরিমাণের দিক থেকেও আমদানি ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে (বর্গমিটার হিসাবে)। তবে গড় একক মূল্য শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে মোট আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক শূন্য ১ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কম। তবে শুধু জুন মাসে বাংলাদেশ থেকে ৭৬৩ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন ডলারে পোশাক আমদানি করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি।
তথ্যে আরো জানা গেছে, মূল্যের দিক থেকে এই ছয় মাসে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চীন থেকে ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ আমদানি হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া ভারত থেকে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ, পাকিস্তান থেকে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ আমদানি হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে কম্বোডিয়া থেকে ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ, ভিয়েতনাম ১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ মূল্যের পোশাক আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিমাণের দিক থেকে কম্বোডিয়া থেকে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া থেকে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ভিয়েতনাম থেকে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং পাকিস্তান থেকে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে পরিমাণের দিক থেকে চীন থেকে ২৬ দশমিক ৩০ শতাংশ, ভারত থেকে ২২ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ পোশাক আমদানি হ্রাস পেয়েছে।
ইউনিট মূল্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি চীনের দর ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ কমেছে। এছাড়া কম্বোডিয়ার দর ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, ভারতের দর ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ, পাকিস্তানের দর ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার দর ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ-উভয়েরই দর ২ দশমিক ১৫ শতাংশ কমেছে।
এ সময়ে বাংলাদেশের পোশাকের দরপতন পাকিস্তানের দরপতনের প্রায় সমান থাকলেও চীন ও ভারতের তুলনায় কম ছিল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

