আত্মশুদ্ধির মেহনত ছাড়া সমাজ সংস্কার অসম্ভব: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বরুণার পীর

আত্মশুদ্ধির মেহনত ছাড়া সমাজ সংস্কার অসম্ভব: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বরুণার পীর

আত্মশুদ্ধির মেহনত ব্যতীত সমাজ সংস্কার অসম্ভব উল্লেখ করে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও বরুণার পীর মুফতি রশীদুর রহমান ফারুক বর্ণভী বলেছেন, আত্মশুদ্ধির মাধ্যমেই আল্লাহ এবং তার রাসূলের (সা.) পরিপূর্ণ গোলামি সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ৮২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘আজিমুশ্বান ইসলাহী ইজতেমা’য় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাদ ফজর থেকে শুরু হওয়া এই ইজতেমায় বরুণার পীর আরও বলেন, সাহাবায়ে কেরাম ইসলাম গ্রহণের আগে যে গুনাহ করতেন, ইসলাম গ্রহণের পর আত্মশুদ্ধির মেহনত করে তারাই হয়ে গেলেন সোনার মানুষ। বর্তমানে সমাজে যত অনাচার, হত্যা, দুর্নীতি ও অরাজকতা রয়েছে, আত্মশুদ্ধির মেহনতের মাধ্যমেই তা বন্ধ করা সম্ভব।

মানুষের প্রকৃত সফলতা দুনিয়ার প্রাচুর্য বা বাহ্যিক উন্নতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঈমানের দৃঢ়তা, আমলের বিশুদ্ধতা, চরিত্রের সৌন্দর্য এবং আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্যেই এর প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। কিন্তু দুনিয়ার ব্যস্ততা ও প্রবৃত্তির টানে অনেক সময় আমরা নিজেদের সংশোধনের কথা ভুলে যাই। ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে শায়খুল ইসলাম আল্লামা লুৎফুর রহমান বর্ণভীর হাতে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য মানুষকে কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করা উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম কারো ক্ষমতায় যাওয়ার বা কাউকে নামানোর কোনো রাজনৈতিক সিঁড়ি নয়।

ইজতেমায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মধুপুরের পীর আব্দুল হামিদ বলেন, যারা নবীজিকে (সা.) শেষ নবী মানে না, তারা কাফের। তিনি কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, ঈমানের সঙ্গে তাকওয়া জরুরি। তাকওয়া ছাড়া ঈমান হয় না আর ঈমান ছাড়া তাকওয়া হয় না। আল্লাহকে ভয় করতে হবে এবং সব ধরনের গুনাহ পরিত্যাগ করে আখিরাতের প্রস্তুতি নিতে হবে।

বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, বর্তমানে এলজিবিটিকিউ এবং ট্রান্সজেন্ডারকে বিভিন্নভাবে প্রমোট করা হচ্ছে। এই অভিশপ্ত ও ঘৃণ্য কাজ সমাজে ছড়িয়ে দিতে নানাবিধ চক্রান্ত চলছে। যেকোনো মূল্যে এসব অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে।

সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ৯০ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে সন্তানের ইমান-আমলের হেফাজতের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রাথমিক স্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। রাষ্ট্র এই দায়িত্ব পালন না করলে আমাদের সন্তানদের ফরজ আইন পরিমাণ দ্বীনি শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদেরই দায়িত্ব।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, প্রত্যেক দায়িত্বশীলের উচিত নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা এবং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে দ্বীনি লক্ষ্যকে প্রাধান্য দেওয়া। বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখতে হবে।

আঞ্জুমানের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শেখ সাদ আহমদ আমীন বর্ণভী, মুফতি ওয়াজেদ আলী ও মুফতি ফয়জুল্লাহ আশরাফীর সঞ্চালনায় ইজতেমায় আরও বক্তব্য দেন— সাইয়্যিদ ফয়সাল নাদীম, সিলেট-৫ আসনের খেলাফত মজলিসের এমপি মুফতি আবুল হাসান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, ওলামা-মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা আকরাম আলী, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মুফতি শেখ আহমদ আফজল বর্ণভী, মুফতি ইমাদুদ্দীন, হাফেজ মাওলানা আলী আকবর কাসেমী ও মুফতি সাইফুল ইসলাম ফারুকী প্রমুখ।

জুমার নামাজের পর ইজতেমা প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আসরের নামাজের পর দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন বরুণার পীর, যার মধ্য দিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন