আন্তর্জাতিক প্রিভেনশন সামিটে ‘ঢাকা ঘোষণা’

আন্তর্জাতিক প্রিভেনশন সামিটে ‘ঢাকা ঘোষণা’

বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির উদ্যোগে বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রিভেশন সামিট ২০২৬’। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক একে আজাদ খানের সভাপতিত্বে এই সামিটে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ)প্রেসিডেন্ট পিটার শোয়ার্জ, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল আফতাব আহমাদ খোখার, ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশনের (ডব্লিউডিএফ) বোর্ড সদস্য মিজ সোবিয়া আকরাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও)ডেপুটি প্রতিনিধি ড. রাজেশ নরওয়াল, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ মিজ তাকাহাশি জুনকোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা সামিটে উপস্থিত ছিলেন।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রিভেনশন সামিট’ আয়োজন করা হয়। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া দিনব্যাপী এই সামিটে প্রায় আড়াইশ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। প্রাণবন্ত সামিটে ‘ঢাকা ঘোষণা’ দেওয়া হয়।

ধর্ম ভিত্তিক ডায়াবেটিস সচেতনতা তৈরির ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবেন বলে মনে করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। তিনি বলেন, ‘আপনাদের (ধর্মীয় নেতা) কাছ থেকেই আমাদের মূল্যবোধ গড়ে উঠে। আগামী প্রজন্ম জীবানাচরণে সেই মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের জন্য আমাদের লাইফ স্টাইল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা যদি আমাদের ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে জানতে পারি, বুঝতে পারি, শিখতে পারি, ছোট ছোট আচরণগত পরিবর্তন আমাদেরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করবে। আমাদেরকে দীর্ঘজীবী করবে। ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করবে। সকল প্রতিনিধিত্বের প্রতি আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানাতে চাই, গবেষণার মাধ্যমে, এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ তুলে ধরেছে। সম্প্রীতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও স্বাস্থকে একেবারে লোকাল কমিউনিটি পর্যায়ে কীভাবে আমরা ছড়িয়ে দিচ্ছি, এজন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন আপনারা। এই কাজটিকে আমরা আরো বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে চাই।’

কীভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও নেতারা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, এ নিয়ে বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির সেন্টার ফর গ্লোবাল হেলথ রিসার্চ নতুন একটি মডেল তৈরি করে। এটা এখন সারা বিশ্বের ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়া আন্তর্জাতিক সামিটে সেই মডেলের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

জানা যায়, মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশেই এখন থেকে এই মডেল কার্যকর করা হবে। শুধু তাই নয়, অন্য ধর্মের দেশগুলোতেও বাংলাদেশের উদ্ভাবিত নতুন মডেলটি চালু হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির পরিচালক এবং ডায়াবেটিস এশিয়া স্টাডি গ্রুপের সাধারণ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য প্রফেসর ডা. বিশ্বজিৎ ভৌমিক বলেন, ‘ডায়াবেটিকস বিষয়ক এই প্রকল্পটি আমরা হাতে নিয়েছিলাম অনেক আগে। যাতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া যাওয়া যায়। এক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি করার জন্য মডেল তৈরি করা হয়। এটি অনুকরণীয় এক মডেল। এই মডেল ওআইসি এপ্লিকেশন করবে। অন্য ধর্মের দেশেও প্রমোট করবে।’

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন