হংকং প্রবাসীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি এবং নির্যাতন করে নগদ টাকা, আইফোন, ডায়মন্ডের লকেটসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়েছে সংঘবদ্ধ মাদক কারবারি চক্রের সদস্যরা। ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে প্রবাসী তানভীর আহমেদ বলেন, ১১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে নাহিদ আহমেদ এবং আল আমিন চক্র। এর মধ্যে আল আমিন কেরাণীগঞ্জের মুসলিমনগর এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে মাদক ব্যবসা করে আসছেন। নাহিদের চাচা রাজিব হংকংয়ে মাদক মামলায় ৭ বছর জেল খেটে দেশে ফিরেন।
বৃহস্পতিবার সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী তানভীর আহমেদ এসব অভিযোগ করেন।
তানভীর জানান, হংকংয়ে পরিচয় ঘটে নাহিদ আহমেদের সাথে। পরে ২০১৭ সালে নাহিদ দেশে ফিরে আসলেও যোগাযোগ ছিল। তানভীর হংকং থেকে ২০২৪ সালের ৯ মার্চ দেশে ফিরলে নাহিদ জানায়, তার পরিচিত এজেন্সির মাধ্যমে ইউরোপ যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেবে। এর জন্য তানভীরের কাছ থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তিন লাখ টাকা নেয় নাহিদ। তানভীর কেরাণীগঞ্জের তেলঘাট এলাকায় প্রকৃতি মিষ্টির গলিতে থাকে। কিন্তু এক পর্যায়ে ইউরোপে যাওয়ার ব্যবস্থা না করে টালবাহানা করতে থাকে নাহিদ। টাকা চাইতে গেলে তাকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করে নাহিদ।
তিনি জানান, কেরাণীগঞ্জ থাকার সুবাদে নাহিদ একদিন আল আমিনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। আল আমিন ও নাহিদ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি তখন জানতে পারিনি। সম্প্রতি তানভীর বিষয়টি জানতে পারেন। এর আগেই গত ১৪ মে তানভীরকে বাসায় আটকিয়ে নগদ ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা, সাথে ৮০০ ইউএস ডলার, হংকং থেকে কিনে আনা রোল্যাক্স কাপল ঘড়ি (কপি) ২ টা, যার দাম (৩৭০০ হংকং ডলার) বাংলাদেশি টাকায় ৫৯ হাজার ২০০ টাকা, লেনেভো ট্যাব, ডায়মন্ডের নেকলেস আর রিং, বিদেশ থেকে আসার পর লাগেজ, ৫টা লেডিস ব্যাগ ডিঅর ব্র্যান্ডের, আরো দুটো ব্যাগ, শ্যাম্পু, সাবান, বডি লোশন এবং আমার বন্ধুদের কিছু মালসহ মোট একটা লাগেজ আর একটা হ্যান্ড ব্যাগ এবং তার ভিতরে প্রয়োজনীয় মালামাল। সবমিলিয়ে ১১ লাখ টাকারও বেশি হাতিয়ে নেয় নাহিদ ও আল আমিন।
তিনি আরো জানান, ঘটনার দিন গত ১৪ মে ব্যক্তিগত কাজে কেরাণীগঞ্জের মুসলিমনগরের বাসা থেকে ব্যক্তিগত কাজে আনুমানিক ১২টার দিকে যমুনা ফিউচার পার্কের উদ্দেশ্যে রওনা করি। শান্তিনগর এলাকায় পৌঁছানোর পর ‘আল আমিনের ফোন পাই আমি’ ফোন দিয়ে আল আমিন আমাকে জানায়, আমার বাসা থেকে ধোঁয়া বাহির হইতেছে, তাড়াতাড়ি বাসায় আসতে বলা হয়। কেরাণীগঞ্জের মুসলিমনগর এলাকায় বাসার কাছাকাছি গেলে অস্ত্রের মুখে আল আমিনদের সেই টর্চার রুমে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে নাহিদের কাকা রাজিব (রাজিব হংকংয়ে মাদক মামলায় ৭ বছর জেল খেটে দেশে এসেছে) কে দেখতে পাই।
সেখানে জোর করে আটকিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করে নাহিদ, আল আমিন, নাহিদের কাকা রাজিব ও ইমরান। নির্যাতন করে বলতে থাকে বাসায় যা যা আছে, খুব সুন্দরভাবে সবকিছু বের করে দিবি। আল আমিন বলে, ‘দেরি করলে হিরোইন আর ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে ডিবির হাতে তুলে দেব, ব্যস কারবার সারা’। আমাকে দরজার পেছনে নিয়ে গিয়ে নাহিদ অনেকগুলো পিং এবং কমলা রঙের মিশ্রিত ট্যাবলেটের একটা ব্যাগ দেখায়।
এক পর্যায়ে নাহিদ, আল আমিন আমাকে নিয়ে আমার বাসায় এসে নগদ টাকা ও এসব মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়। অস্ত্রের মুখে ওইদিনই আমাকে কেরাণীগঞ্জ এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। প্রাণভয়ে আমি ওই এলাকায় যেতে পারিনি। থানা পুলিশের দ্বারস্থ হলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান তানভীর। ভুক্তভোগী জানান, আল আমিন কেরাণীগঞ্জের মুসলিমনগর এলাকায় মাদক সাপ্লাই দেয়। বিভিন্ন দোকান ও মেলা থেকে চাঁদা আদায় করে। এলাকার মানুষকে বিভিন্ন ফাঁদে পেলে বিচারের নামে তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

