যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগম নিজেই এই দাবি করেন। কলেজের সার্বিক অবস্থা নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।
লিখিত বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, আমার এবং এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এবং গভর্নিং বডির ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্টান সাফল্য লাভ করে।
অথচ আওমামীপন্থী কুচক্রীমহলটি গত ১৭ বছর তিলে তিলে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়েও ক্ষান্ত হয়নি, বর্তমানেও শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অবিভাবকদের উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ মতে, যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘ ১৩ মাসের বেতন বকেয়া, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, আওয়ামী লীগ আমলে তোষামদ করে সুবিধা ভোগের অভিযোগ রয়েছে। যা বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদন্তাধীন।
এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষের বক্তব্য আনতে গিয়ে সম্প্রতি সাংবাদিকরাও হেনস্থার শিকার হন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগম তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিক হেনস্থায় তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। তবে স্কলে সংঘঠিত এ ধরণের একটি ঘটনার জন্য তিনি দু:খ প্রকাশ করেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর (২০১১-১২) শিক্ষাবর্ষ থেকে তৎকালীন গভর্নিং বডি ও কিছু শিক্ষকদের অশিক্ষাসুলভ আচরণের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমতে থাকে। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ১৪৩ জন।
বর্তমানে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে ১৬৯ জন। এর মধ্যে শিক্ষক ১৪২ জন এবং কর্মচারী ২৭ জন। শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে এমপিওভুক্ত আছে যথাক্রমে ৩৫ জন ও ৫ জন। বাকিদের বেতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় থেকে বহন করতে হয়।
বর্তমানে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাবদ ব্যয় হয় ২৬ লাখ ৫১ হাজার ৯৭৭ টাকা। এর সাথে মাসিক বিদ্যুৎ, ওয়াসা, প্রিন্টিং, ইন্টারনেট, সফ্টওয়্যার বিল, মিউনিসিপ্যালিটি ট্যাক্স, উৎস ও মুষক কর এবং জেনারেটরের জ্বালানি খরচ, মেরামত ও আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র ক্রয় বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকার মতো খরচ হয়। অথচ মাসিক একাডেমিক ফি বাবদ আদায় হয় মাত্র ১৬ লাখ ৩৪ টাকা। বছরে এই বিপুল পরিমাণ ঘাটতির টাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া হওয়ার মূল কারণ।
তিনি বলেন, প্রতি বছর ৩/৪ মাস করে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া হওয়ার কারনে বর্তমানে মোট ১৩ মাসের বেতন বকেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি রমিজ উদ্দিন আহমেদ, দিবা শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মফিজুর রহমান, প্রভাতী শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: এমদাদ উল্লাহসহ শিক্ষকরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

