পল্লবীর সেকশন-১১-তে গত ৭ আগস্টের গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—হামিদ খান ওরফে মাখন, ল্যাংড়া রুবেল, তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পা, পারভেজ ও রাব্বী। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, এক হাজার পিস ইয়াবা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম। তবে গুলিবিদ্ধ আলমগীরের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি। সেখানে তাকে কেবল একজন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময়কার তথ্য অনুযায়ী, আলমগীর নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা।
ডিবি জানায়, গত ৭ আগস্ট বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটের দিকে পল্লবী থানার সেকশন-১১ এলাকার ইমনের চায়ের দোকানের সামনে গুলির ঘটনা ঘটে। মাদকদ্রব্য বিক্রির লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তথ্য দিয়েছেন।
গুলিতে আলমগীর গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় পথচারী জোসনা পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পর আলমগীরের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পল্লবী থানায় হত্যা চেষ্টার মামলা করা হয়।
মামলাটি থানায় হওয়ার পর ডিবির মিরপুর বিভাগ ছায়াতদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের আশপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হামলাকারীদের ব্যবহৃত যানবাহনের গতিপথ অনুসরণ করা হয়। একপর্যায়ে শনাক্ত হয় একটি টয়োটা প্রিমিও।
এরপর গাড়িটির নিবন্ধিত মালিক হামিদ খান ওরফে মাখনকে পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে হামিদ জানান, গাড়িটি তার নামে নিবন্ধিত হলেও প্রকৃতপক্ষে সেটি ব্যবহার করতেন ল্যাংড়া রুবেল।
হামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা পৌঁছান রুবেলের সহযোগী পারভেজ ও রাব্বীর কাছে। পল্লবীর কালশী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ল্যাংড়া রুবেলের ব্যবহৃত একটি সাদা টয়োটা ভক্সি গাড়ি। ওই গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় এক হাজার পিস ইয়াবা।
পারভেজ ও রাব্বীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপনগর থানার ইস্টার্ন হাউজিং-সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ল্যাংড়া রুবেল ও তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পাকে।
তাদের কাছ থেকেই উদ্ধার করা হয় বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন। অর্থাৎ যে গোলাগুলির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছিল পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায়, তদন্তে সেই ঘটনায় ব্যবহৃত বলে দাবি করা অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।
ডিবি জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলার পাশাপাশি অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


